তাসনিম জারা
আমার নাম বা ছবি দিয়ে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা

তাসনিম জারা
কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে তাদের বিষয়ে সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। আজ শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানান তিনি।
তাসনিম জারা তার পোস্টে বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে আওয়ামী কর্মীরা আমাকে ‘সেক্স ডাক্তার’, ‘যৌন ডাক্তার’ বলে প্রচার করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আমাকে হেয় করা, লজ্জা দেওয়া। তাদের এই প্রচার মিথ্যা। আমি মেডিসিনের ডাক্তার। তবুও আমি আজ পর্যন্ত এই অপপ্রচারের কোনো জবাব দিইনি। দুইটা কারণে।
এক) আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, ‘না না, আমি ও-রকম ডাক্তার নই’, তাতে হয়তো তাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার। এতে অন্যায় হতো সেই ডাক্তারদের প্রতি, যারা যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন। মানুষের এমন অনেক কষ্ট আছে, যা সে মা-বাবাকে বলতে পারে না, বন্ধুকে বলতে পারে না, এমনকি অনেক সময় নিজের স্বামী বা স্ত্রীকেও না। এদের পাশে সহায় হয়ে দাঁড়ান এই চিকিৎসকেরাই। তাদের হাতে ভাঙা সংসার জোড়া লাগে, নিঃসন্তান দম্পতির কোলে সন্তান আসে, গভীর হতাশা থেকে মানুষ আলোয় ফেরে। এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?
দুই) দ্বিতীয় কারণটা রোগীদের নিয়ে। আমি যদি এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হতাম, তাহলে এমন ধারণায় সায় দেওয়া হতো যে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই। অথচ এই লজ্জার দাম প্রতিদিন গুনছে অসংখ্য মানুষ। সংকোচে ডাক্তারের কাছে যায় না, হাতুড়ের খপ্পরে পড়ে, ভুল ওষুধ খায়, বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সইতে থাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, মাঝে মাঝে চোখে পড়ে, কেউ লিখেছেন, ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এসব দেখে মায়া হয়। এরা নিজেকে প্রগতিশীল বলে পরিচয় দিতে চান, অথচ সত্যিকারের প্রগতিশীলতার জন্য যে জ্ঞান আর সহানুভূতিশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন, তা রপ্ত করতে পারেননি। ‘যৌন ডাক্তার’ কথাটাকে তারা গালি ভাবেন না জানা থেকে, কূপমণ্ডূকতা থেকে। কুয়োর ভেতর থেকে আকাশটা ছোট দেখায়, সে দোষ তো আকাশের নয়।
তাসনিম জারা বলেছেন, গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখলাম, আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ১৬০টি বিজ্ঞাপন চলছে। এই অপপ্রচারের কৌশলটা লক্ষ্য করার মতো। হাজার হাজার ডলার খরচ করে আমার ছবির সঙ্গে অশ্লীল কথা জুড়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে; তারপর সেই বিজ্ঞাপনেরই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে বলা হয়েছে, ‘দেখুন, ইনি এই সব বিক্রি করেন! এমন অশ্লীল কথা বলেন!’ এভাবে নাটক সাজিয়ে প্রমাণ তৈরি করেন। আর সেই নাটকের সুযোগে নেমে পড়েছে একদল প্রতারক। আমার নাম-ছবি বসিয়ে বিক্রি করছে ওষুধ, স্লিমিং পণ্য, হরেক রকম ‘চিকিৎসা’।
তিনি আরও বলেছেন, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ওষুধ বিক্রি করি না। কোনো স্লিমিং পণ্য বিক্রি করি না। কোনো চিকিৎসা, কোনো ট্রিটমেন্ট বিক্রি করি না। আমার নাম বা ছবি দিয়ে যেখানে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা। এসবের নিচে আবার প্রতারক চক্র কমেন্ট করে রাখেন অনেক উপকার পেয়েছি।
তার ভাষ্য, গর্ভবতী মায়েদের জন্য আমাদের তৈরি একটা অ্যাপ আছে: ‘সহায় প্রেগনেন্সি’। সেখানেও কোনো পণ্য বিক্রি হয় না। অধিকাংশ মানুষ অ্যাপটা ফ্রিতে ব্যবহার করেন; কেউ কেউ অ্যাপের প্রিমিয়াম ভার্শন কিনে ব্যবহার করেন। তাই আমার নামে কোনো ওষুধ, চিকিৎসা বা প্রোডাক্টের ছবি বা ভিডিও চোখে পড়লে নিশ্চিন্তে ধরে নেবেন, এগুলো প্রতারকদের কাজ। এসব তো কিনবেনই না, আশেপাশের কাউকে কিনতে দেখলে সতর্ক করে দেবেন। বিশেষ করে যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন কিন্তু সব প্রতারণার কৌশল বুঝেন না। শেষ কথা, যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে যারা কাজ করেন, সেই চিকিৎসকদের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা। আপনার কোনো যৌন সমস্যা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতে সংকোচ করবেন না। অনেক রোগের ক্ষেত্রেই যত দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাবেন, তত ভালো।





