কুক্ষিগত জুলাই নিয়ে চুপ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি : মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিজের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
আজ বুধবার দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বক্তব্য, স্লোগান ও খসড়া প্রণয়নে তিনি নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন। তবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধিতার কারণে এসব অবদানের স্বীকৃতি পাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাহফুজ আলম স্ট্যাটাসে লেখেন, ২০১৮ সালে তৎকালীন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের বিভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তি, সীমান্ত হত্যাবিরোধী আন্দোলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য, আবরার ফাহাদ হত্যার পর প্রকাশিত পুস্তিকা, ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মপন্থা এবং ২০২৩ সালে ছাত্রশক্তির আদর্শিক অবস্থানের বক্তব্য প্রণয়নে তিনি যুক্ত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকে আদালতকেন্দ্রিক ধারা থেকে নির্বাহী বিভাগের দিকে নেওয়ার কৌশল, ‘বাংলা ব্লকেড’ নামকরণ, সড়ক দখলের পরিকল্পনা, সমন্বয়কদের ১৯-২০ জুলাইয়ের বিবৃতির খসড়া, এক দফা ঘোষণার খসড়া, অসহযোগ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত এবং ৪ আগস্টের লংমার্চের স্লোগান তৈরিতেও তার ভূমিকা ছিল।
তার দাবি, ছাত্রশক্তির পাঁচ সদস্যের পলিটিক্যাল কাউন্সিলের একজন হিসেবে আন্দোলনের সময় তিনি আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্ন নেতার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও সিগনালের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করেন। গুমের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ২২ জুলাই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে নাহিদ ইসলামের হাতে আন্দোলনের নতুন কৌশলসংবলিত একটি নোট তুলে দেন বলেও উল্লেখ করেন।
মাহফুজ আলমের ভাষ্য, জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রথম ইংরেজি খসড়া এবং ৫ আগস্ট ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করা একটি খসড়াও তার লেখা ছিল। তবে সে সময় অভ্যুত্থানের নেতারা উপস্থিত না থাকায় শাহবাগ থেকে সেটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
স্ট্যাটাসে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, লিয়াজোঁ কমিটি থেকে নাগরিক কমিটির ছয় মাসের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত ও লেখালেখির বড় অংশ তার করা হলেও নেতাদের বক্তব্যে সেসবের উল্লেখ পাওয়া যায় না। এর জন্য তিনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধিতাকে দায়ী করেন।
জুলাই আন্দোলন নিয়ে চলতি বছর কোনো সাক্ষাৎকার দেননি কিংবা লেখেননি জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘জুলাই নিয়ে এ বছর কোথাও ইন্টারভিউ দিইনি, লিখিনি। ইন্টারভিউ দেব না, লিখবও না। দু-একটি পরিচিত সার্কেল ছাড়া কোনো জুলাই অনুষ্ঠানে দাওয়াতও পাইনি। জাশি বিরোধিতার কারণে ‘বিভাজনকারী’ ও ‘জুলাই গাদ্দার’ হয়েছি। ফলে জাশির কুক্ষিগত এ জুলাই মাসে চুপ থেকেছি। কুক্ষিগত জুলাই আর অন্তরীণ সরকার নিয়ে আরও চুপ হয়ে যাওয়ার নিয়ত করেছি।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বললেন, ‘ইতিহাস একদিন আমার বিরুদ্ধে সকল অপপ্রচার আর আক্রমণের জবাব দেবে। ততদিন সবুর করি। আল্লাহ ভরসা।’





