Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
ফুটবলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক লাইজু
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব

শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে এক ‘বিকেল সন্ধ্যা রাত’

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৩
শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের সঙ্গে এক ‘বিকেল সন্ধ্যা রাত’

শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার । গ্রাফিকস: অরবিন্দ হালদার

বাংলাদেশের চিত্রশিল্প, পাপেট্রি ও টেলিভিশন-নাট্যজগতের উজ্জ্বল নাম মুস্তাফা মনোয়ার। ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার শ্রীপুর থানার নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে তার জন্ম। পিতা কবি গোলাম মোস্তফা, মাতা জমিলা খাতুন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ডাকনাম মন্টু। পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। গ্রামের প্রকৃতি, পিতার ফটোগ্রাফি ও সঙ্গীতচর্চা, গ্রামবাংলার পুতুলনাচ— এই সবই তার শিল্পী মনের ভিত রচনা করে।

১৯৫২ সালে নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় হন। প্রতিবাদী কার্টুন এঁকে দেয়ালে সাঁটানোর অপরাধে এক মাস কারাবাস করেন ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে। ম্যাট্রিকুলেশনের পর কলকাতায় স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞানে ভর্তি হলেও অঙ্কে দুর্বলতার কারণে সেখান থেকে সরে আসেন। সৈয়দ মুজতবা আলীর সহায়তায় ভর্তি হন কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে। সেখানে রমেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে শিল্পশিক্ষা নেন, পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতচর্চাও চালিয়ে যান। ‘হিজ মাস্টার ভয়েস’ প্রতিযোগিতায় যুগ্ম শ্রেষ্ঠ গায়ক নির্বাচিত হন এবং নির্মলেন্দু চৌধুরীর দলে তিন বছর গান করেন। ১৯৫৭ ও ১৯৫৮ সালে গ্রাফিক্স, তেলচিত্র ও জলরঙে তিনটি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। সত্যজিৎ রায় তার ছবি দেখে বলেছিলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ারের আঁকা ছবি খুব অল্পতে কথা বলতে পারে।’ ১৯৫৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি কলেজ শেষ করেন।

১৯৬০ সালে জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে ঢাকায় ফিরে চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এ সময়েই পাপেট্রির প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্র চালু হলে সেখানে যোগ দেন। ষাটের দশকের শেষে ‘আজব দেশে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘বাঘা’ ও ‘মেনি’ চরিত্র দিয়ে পাকিস্তানি শাসনের ব্যঙ্গ শুরু করেন। ১৯৬০-৬১ সালে কলিম শরাফীর ডকুমেন্টারিতে প্রথম তার পাপেট চলচ্চিত্রে আসে। ১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয়। পুত্র সাদাত, কন্যা নন্দিনী।

একাত্তরের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনের সময় পিটিভি বাংলার অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক হিসেবে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পতাকা প্রদর্শন বন্ধ রাখেন—রাত ১২টা পেরিয়ে ২৪ মার্চ হওয়ার পর তবেই অনুষ্ঠান শেষ করেন। ওই মাসেই ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম’ গণসংগীত পরিচালনা করেন, যেখানে দশ কণ্ঠকে কয়েকশ কণ্ঠের মতো শোনানো হয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শরণার্থী শিবিরে শিশুদের জন্য পাপেট শো করতে থাকেন। ‘পুতুলওয়ালা’ নামে পরিচিত হন। লিয়ার লেভিনের ক্যামেরায় ধারণকৃত সেই দৃশ্য পরে তারেক মাসুদের ‘মুক্তির গান’-এ জায়গা পায়। একই সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারে ট্রান্সমিশন ম্যানেজার ও প্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেন।

বিটিভিতে প্রচারিত মনের কথা অনুষ্ঠানে পারুল ও বাউল চরিত্রকে নিয়ে হাজির হতেন মুস্তাফা মনোয়ার। সঙ্গে থাকত ষাঁড়স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’র রূপকার হন। ১৯৭৩ সালে ‘রক্তকরবী’ ও ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’-এর টেলিভিশন রূপ দেন, যা গ্রানাডা টিভির ‘ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব টিভি ড্রামা’য় মনোনীত হয়। ‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘পারুল’, ‘বাউল’, ‘ষাঁড়’-এর মতো চরিত্র সৃষ্টি করেন। পারুলকে দেখে ইউনিসেফ পরে ‘মীনা’ কার্টুনের ধারণা পায়। দ্বিতীয় সাফ গেমসের মাস্কট ‘মিশুক’ এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপনও তার কীর্তি। ১৯৮৯ সালে বিটিভির রজত জয়ন্তীতে এরশাদের নির্দেশ অমান্য করে ম্যুরালে তার গান বসাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদের আরেক মাইলফলক স্থাপন করেন।

শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, এফডিসিসহ বহু প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন। মস্কো, সিউল, তাসখন্দসহ বহু আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৭-৫৮-এর স্বর্ণপদক, ১৯৯০-এ টেনাশিনাস পদক, ২০০৪-এ একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার পান। দীর্ঘ রোগভোগের পর ২০২৬ সালের ২৯ জুন, সকাল সাড়ে ৮টায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯১।

ঠিক এগারো বছর আগে, ২০১৬ সালের বর্ষায় ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে বসে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের পক্ষ থেকে আমি সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলাম। তখন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার বা শিল্পাঙ্গনের সর্বজনশ্রদ্ধেয় মন্টু ভাইয়ের বয়স ৮০’রও বেশি। ক্লান্ত শরীর, কিন্তু পুতুলের মতোই চনমনে চোখ। সেদিন তিনি ভাল মুডে ছিলেন, আলাপ করেছিলেন প্রাণ খুলে। নিচে ধারণকৃত আলাপের শ্রুতিলিখন বিবৃত হলো। আগামীর সময়ের পাঠকদের জন্য রইল সাক্ষাৎকারটির তিন পর্বের দ্বিতীয় পর্ব।

শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার - সংগৃহীত ছবি(প্রথম পর্বের পর)

শিমুল সালাহ্‌উদ্দিন: একটু ব্যক্তিগত জায়গায় যাই স্যার, ১৯৬৫ সালে আপনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন (মেরী মনোয়ারের সঙ্গে)। আপনার সংসার, ছেলে (সাদাত) মেয়ে (নন্দিনী)— এত ব্যস্ত কর্মজীবনে বাকীদের সাথে আপনার সম্পর্কগুলো কীভাবে আগলে রাখেন?

মুস্তাফা মনোয়ার: কী যে বলো! আমি আবার আগলে রাখব কীভাবে। ওরাই আমাকে আগলে রাখে। (নিশ্বাস ফেলে) মেরী ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক ও আশ্রয়। পারিবারিক উদ্যোগে বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু ও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছিল। আমি টিভির কাজে সপ্তাহে পাঁচদিন ১৪ ঘণ্টার বেশি বাইরে থাকতাম। সংসারটা ও বলতে গেলে একাই টেনেছে। ছেলে সাদাত আর মেয়ে নন্দিনী বড় হয়েছে আমার এই ছন্নছাড়া পাগলামির মধ্যেই। একদিন নন্দিনী বলেছিল,‘আব্বা তো শুধু পুতুলের আব্বা।’ কথাটা আজও বুকের ভেতর শেলের মতো বিঁধে আছে আমার। তবে ওরা পরে গর্ব করেছে, আর মেরী কখনো অভিযোগ করেনি সে অর্থে— এটাই আমার বড় প্রাপ্তি।

শিমুল: চলুন স্যার, এবার একটু ১৯৭১-এ ফিরি। ২৩ মার্চ, পাকিস্তান দিবস। আপনি সে সময়ের ‘পিটিভি বাংলা’র অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক। সেদিন আপনি পতাকা প্রদর্শন করেননি শুনেছি। পাকিস্তান আমলে সাহস করে এত বড় প্রতিবাদ কী করে করলেন?

মুস্তাফা মনোয়ার: (চোখেমুখে প্রতিবাদী দীপ্তি) ওটা ছিল বড় নাটকীয়, শিমুল। প্রতিদিন রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পতাকা দেখিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হতো। ২৩ মার্চ আমি আর আমার সহকর্মীরা ঠিক করলাম, পাকিস্তান দিবসে পতাকা প্রদর্শন করব না। তাই অন্য সব অনুষ্ঠান শেষ করেও গান চালিয়ে যেতে থাকলাম। ডিআইটি ভবনে পাহারায় থাকা সেনাবাহিনীর লোক বারবার এসে দেখে গেল— কেন শেষ হচ্ছে না? ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছুঁইয়ে ২৪ মার্চ এলো। তারপর রাত ১২:৪৫-এ পতাকা দেখিয়ে শেষ করলাম। পাকিস্তান দিবসে তাদের পতাকা টেলিভিশনে দেখানো হলো না।

মুস্তাফা মনোয়ারের মনের কথা অনুষ্ঠানে পারুল ও বাউল চরিত্র - সংগৃহীত ছবিশিমুল: ওই মাসেই তো ফজল-এ-খোদার রচনায় এবং আজাদ রহমানের সুরে ‘সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম, চলবে দিনরাত অবিরাম’ গণসংগীতটি আপনার পরিচালনায় প্রচারিত হয়। শুনেছি, দশজন শিল্পী মিলে গাইলেও দর্শকদের মনে হয়েছিল কয়েকশ শিল্পী একসঙ্গে গাইছেন।

মুস্তাফা মনোয়ার: (হাসলেন) হ্যাঁ, সেটা ছিল আরেক কৌশল। গানটি গেয়েছিলেন দশজন শিল্পী। কিন্তু রেকর্ডিংটা ল্যুপ করে নির্মাণের এমন কৌশল করেছিলাম যে যখন প্রচারিত হলো, দর্শকদের মনে হলো যেন কয়েকশ শিল্পী একসঙ্গে গাইছেন। ওই গানটা তখন মানুষের মনে দারুণ সাড়া ফেলেছিল।

শিমুল: মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আপনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে ‘পুতুলওয়ালা’ হয়ে উঠলেন। পড়েছি আমরা, আপনি শরণার্থীশিবিরে শিশুদের আতঙ্কগ্রস্ত মলিন চেহারায় হাসি ফোটানোর জন্য সেই শরণার্থীশিবিরে জীবনের প্রথম পাপেট শো করেছিলেন!

মুস্তাফা মনোয়ার: (গম্ভীর হয়ে)একদম ঠিক, তুমি বেশ প্রস্তুত হয়ে এসেছো বুঝে কিন্তু আমার ভাল লাগছে। সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়শিবিরে গিয়ে দেখলাম শিশুরা ভয়ে, ক্ষুধায়, বাবা-মাকে হারানোর শোকে একেবারে নিথর, মলিন। ওদের কী করে হাসাব? সঙ্গে ছিল একটুকরো কালো কাপড় আর কয়েকটা পুতুল। কালো কাপড় টাঙিয়ে আড়ালে দাঁড়িয়ে পুতুল নাচানো শুরু করলাম। প্রথম দিনই বাচ্চারা হাসল। তারপর তো ‘পুতুলওয়ালা, পুতুলওয়ালা’ বলে ছুটে আসত। ক্যাম্পে পাপেট শো-তে আমি সেসময়ের পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে পুতুল বানিয়ে এমন ব্যঙ্গ করতাম যে শিশু থেকে বৃদ্ধ— সবাই হাসিতে ফেটে পড়ত। সেই হাসির মধ্য দিয়েই তারা কিছুটা হলেও সাহস-তো ফিরে পেত। আমি তখন আশপাশে যারা ছিলো, বলতাম, দেখলে, হাসি কত বড় মারণাস্ত্র!

শিমুল: সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিন আপনার পাপেট শো’র দৃশ্য ধারণ করেন। পরবর্তীতে তারেক মাসুদের ‘মুক্তির গান’-এ সেই ফুটেজের কিছু অংশ স্থান পায়। আপনি কি সেই ফুটেজ দেখেছেন?

মুস্তাফা মনোয়ার: শিমুল দেখেছি। ওরা আমাকে দেখিয়েছে বাড়িতে এনে। হেসেছি আর কেঁদেছি। লিয়ার লেভিন ক্যামেরা হাতে হাজির হয়েছিলেন, বলেছিলেন ‘বিশ্বকে এটা দেখাতে চাই।’ পরে তারেক মাসুদ সেই ফুটেজ ‘মুক্তির গান’-এ ব্যবহার করে। পর্দায় যখন নিজের হাতে ধরা ইয়াহিয়ার পুতুলকে ব্যঙ্গ করতে দেখি, তখন মনে হয়েছিল ওটা আমি না, ওটা গোটা একটা জাতির ব্যথার গল্প তুলে ধরা হাসি।

শিমুল: একই সময়ে আপনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ট্রান্সমিশন ম্যানেজার ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানেও তো রঙ তুলি নয়, শব্দকেই হাতিয়ার করলেন।

মুস্তাফা মনোয়ার: হ্যাঁ, বেতারে আমি ফিল্ড রেকর্ডিং থেকে শহীদদের শেষ কণ্ঠস্বর আর যোদ্ধাদের স্লোগান জোড়া দিয়ে শব্দনাট্য তৈরি করেছি। তুমি চাইলে বলতে পারো, ওটাই আমার জীবনের সেরা একটা ‘কোলাজ আর্ট’। ’৭১-এর আগে শিল্পকে সৌন্দর্যের মধ্যে দেখতাম, কিন্তু যুদ্ধ আমাকে শিখিয়েছে সৌন্দর্যের চেয়ে ‘সত্য’ বড়। এই অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে ‘রক্তজবা’ নামে একটা পাপেট নাটক করেছিলাম, যেখানে কোনো সংলাপ ছিল না— শুধু যুদ্ধের শব্দ আর পুতুলের দেহভঙ্গি।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার - পারিবারিক অ্যালবাম থেকেশিমুল: যুদ্ধের পর তো আপনার কর্মজীবন আরও বিস্তৃত হলো। ১৯৭২ সালে বিটিভিতে ‘নতুন কুঁড়ি’র রূপকার আপনি, যেটা শিশু প্রতিভা বিকাশের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠল। আবার ১৯৭৩ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’র টেলিভিশন নাট্যরূপ দিলেন, এবং মুনীর চৌধুরীর ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’— যা শেক্সপিয়রের ‘টেমিং অব দ্য শ্রু’র বাংলা অনুবাদ— সেটিও আপনার পরিচালনায় এলো। এই নাটক দুটি তো যুক্তরাজ্যের গ্রানাডা টিভির ‘ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি অব টিভি ড্রামা’র জন্য মনোনীত হয়েছিল!

মুস্তাফা মনোয়ার: (বিনীত হেসে) এসবই আমার সন্তানের মতো। ‘নতুন কুঁড়ি’ করতে গিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা শিশুদের প্রতিভা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়েছি। আর ‘রক্তকরবী’ আর ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’ করতে গিয়ে বুঝেছিলাম, টেলিভিশনের ছোট পর্দাতেও ত্রিমাত্রিকতা আনা যায়— সেটাই ছিল আমার সবসময়ের নতুন কিছু করবার নেশা। গ্রানাডা টিভির জন্য মনোনীত হওয়াটা নিঃসন্দেহে বড় পাওয়া, তবে এর চেয়েও বড় পাওয়া ছিল তাদের আমার কাছের মানুষেরা খুব খুশি হয়েছিল। কোন একটা পত্রিকায় খবর বেরিয়েছিল।

শিমুল: আপনি তো দ্বিতীয় সাফ গেমসের মাস্কট ‘মিশুক’-এর নির্মাতা। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনের লাল সূর্যের প্রতিরূপও আপনারই করা। একজন ভাষা সৈনিক হিসেবে এটা নিশ্চয়ই আলাদা অনুভূতির?

মুস্তাফা মনোয়ার: ভাষা আন্দোলনে জেল খেটেছি, তাই শহীদ মিনারের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কটা জন্মসূত্রেই ছিল। ওই লাল সূর্যের প্রতিরূপ স্থাপন করতে পেরে মনে হয়েছিল যেন সেই শহীদদের প্রতি একটু শ্রদ্ধা জানাতে পারলাম। হামিদ ভাই কাজ করছিলেন তখন শহীদ মিনারের, নভেরাও ছিলেন।

(পরবর্তী পর্বে সমাপ্য, প্রথম খণ্ডের লিংক)

মুস্তাফা মনোয়ারসাক্ষাৎকারশিমুল সালাহ্উদ্দিন
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৯:০০ টা
    সুইজারল্যান্ড
    ২
    আলজেরিয়া
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ১২:০০ টা
    অস্ট্রেলিয়া
    ০
    মিসর
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    কেপ ভার্দে
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৭:৩০ টা
    কলম্বিয়া
    ০
    ঘানা
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ১১:০০ টা
    কানাডা
    ০
    মরক্কো
    ০
    ০৫ জুলাই ২০২৬
    রাত ৩:০০ টা
    ফ্রান্স
    ০
    প্যারাগুয়ে
    ০
    advertisement
    advertisement
    নরওয়ের স্ট্রাইকার নুসা লেখকও, তার বই হয়েছে বেস্টসেলার

    নরওয়ের স্ট্রাইকার নুসা লেখকও, তার বই হয়েছে বেস্টসেলার

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০০

    ফুটবলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক লাইজু

    ফুটবলের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক লাইজু

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩

    ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলে শেষ ১৬-য় স্পেন

    ওইয়ারসাবালের জোড়া গোলে শেষ ১৬-য় স্পেন

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:৩০

    ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো, হয়তো আর ফিরতে পারব না’

    ‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো, হয়তো আর ফিরতে পারব না’

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:১০

    জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানি না

    জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানি না

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭

    নারীর রাজনৈতিক বৈধতা ভাঙার চেষ্টা

    নারীর রাজনৈতিক বৈধতা ভাঙার চেষ্টা

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:৫২

    কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় শিক্ষার্থীকে শোকজ

    কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় শিক্ষার্থীকে শোকজ

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:৩১

    ৩৪ হাজারের বেশি হজযাত্রী ফিরিয়েছে বিমান

    ৩৪ হাজারের বেশি হজযাত্রী ফিরিয়েছে বিমান

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫

    বিশ্বকাপ নিয়ে আবার নোরা-সঞ্জয়ের গান

    বিশ্বকাপ নিয়ে আবার নোরা-সঞ্জয়ের গান

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮

    প্রতিদিন ১০ খুন, অভিযানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল

    প্রতিদিন ১০ খুন, অভিযানেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ফল

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬

    ইরানের নির্দেশ না মানলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি

    ইরানের নির্দেশ না মানলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:১৩

    মিছিলে বাধা দেওয়ায় ‘ককটেল ছুড়েছেন’ মৃত ৪ আ.লীগ নেতা

    মিছিলে বাধা দেওয়ায় ‘ককটেল ছুড়েছেন’ মৃত ৪ আ.লীগ নেতা

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:৫৮

    চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন আজ

    চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন আজ

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:৫৭

    জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৯, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ৩৫২

    জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৯, নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ৩৫২

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২২

    রোনালদোর রেকর্ডের রাতে মদরিচের স্বপ্নভঙ্গ

    রোনালদোর রেকর্ডের রাতে মদরিচের স্বপ্নভঙ্গ

    ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৪

    advertiseadvertise