Agamir Somoy E-Paper
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
পাখিপ্রেমী বুদ্ধ প্রামানিক
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সাক্ষাৎকার

‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো, হয়তো আর ফিরতে পারব না’

আমজাদ হোসেন হৃদয়
আমজাদ হোসেন হৃদয়
agamir somoy
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:১০
‘বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো, হয়তো আর ফিরতে পারব না’

রাকিবুল ইসলাম রাকিব। ফাইল ছবি

ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। আন্দোলন চলাকালে তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। সংগঠনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনা, সংগঠনের কৌশল এবং উত্তাল দিনগুলোর অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামীর সময়–এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমজাদ হোসেন হৃদয়।

আগামীর সময় : কোটা সংস্কার আন্দোলনের সূচনালগ্নে ছাত্রদলের অবস্থান কী ছিল?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : শুরু থেকেই আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা জানিয়েছিলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোটা সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে এবং এটি বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। জুনের শুরুতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু তখন পুরো ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। দখলদারিত্ব ও হামলার কারণে বড় কর্মসূচি করা সম্ভব হয়নি। আমরা শুরু থেকেই মনে করেছি, কোটা সংস্কার একটি যৌক্তিক দাবি। স্বাধীনতার এত বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে একই সুবিধা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহাল রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। সে কারণেই ছাত্রদল শুরু থেকেই আন্দোলনের প্রতি নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেয়। ২৫ জুন নয়াপল্টনে আমাদের কর্মসূচিতে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। সেদিনই ঘোষণা দিয়েছিলাম, ১ জুলাই থেকে আন্দোলন গতি পেলে ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে রাজপথে থাকবে। পরে আমরা সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করেছি।

আগামীর সময় : ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার পর আন্দোলনের কৌশলে কী পরিবর্তন আসে?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম গঠনের পর থেকেই তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সমন্বয় বেশি হয়েছে। নাহিদ ইসলামসহ অন্য সমন্বয়কদের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।

আন্দোলন শাহবাগকেন্দ্রিক হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে হবে। নতুন কমিটি হওয়ায় আমাদের নেতাকর্মীরাও তখন বেশ উজ্জীবিত ছিলেন।

১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। এরপর আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ছাত্রদল আর পিছু হটবে না; আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

১৫ জুলাই ছাত্রলীগের হামলার পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। এরপর আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অনেক শিক্ষার্থী নিহত হন এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই, ছাত্রদল আর পিছু হটবে না; আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। পরদিন নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলন করে সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় এবং সারা দেশের ইউনিটগুলোকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আগামীর সময় : ১৫ জুলাইয়ের পর আন্দোলনের নতুন বাস্তবতায় ছাত্রদল কীভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : ১৫ জুলাইয়ের পর আমরা বুঝে যাই, আন্দোলন আর শুধু কোটা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তাই প্রকাশ্যে নয়, আত্মগোপনে থেকেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিই। সারা দেশের ইউনিটগুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সময়ে যাত্রাবাড়ীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় যাত্রাবাড়ীর লবণগলির একটি বাসায় আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকেই আন্দোলনের সমন্বয় করতাম। প্রায় প্রতিদিনই যাত্রাবাড়ী থেকে নয়াপল্টন, শাহবাগ কিংবা নির্ধারিত কর্মসূচিতে যেতাম। প্রতিটি যাত্রাই ছিল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মনে হতো— হয়তো আর ফিরে আসতে পারব না। তারপরও আন্দোলনের স্বার্থে সেই ঝুঁকি নিতে হয়েছে।

আগামীর সময় : আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সমন্বয় কীভাবে হয়েছে?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : পুরো আন্দোলনই আমরা পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ সম্পাদক নাছির নয়াপল্টন ও শাহবাগের সমন্বয় করেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ মিরপুর অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন। অন্য নেতারাও রামপুরা, কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকা ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নেতাকর্মীরা যে যেখানে অবস্থান নিয়েছেন, সেখান থেকেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি ইউনিট সভাপতিকে নিয়মিত জানাতে হতো, তাদের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিতে সক্রিয় আছেন কি না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আগামীর সময় : সেসময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : পুরো সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানের নির্দেশনাই আমাদের প্রধান দিকনির্দেশনা ছিল। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বিকল্প মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ রাখতেন এবং আন্দোলনের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেন। বিশেষ করে হাইকোর্টের সামনে শিক্ষক-আইনজীবীদের কর্মসূচি তার নির্দেশনাতেই বাস্তবায়ন করা হয়। আমার বিশ্বাস, সেই কর্মসূচি আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। বিশেষ করে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি দিন তিনি ছাত্রদল, যুবদল এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাদের মাধ্যমে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং দলীয়ভাবে প্রতিটি ইউনিটকে মাঠপর্যায়ে উপস্থিত নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দিতেন। একই সঙ্গে সব পরিস্থিতি তিনি নিজে মনিটরিং করে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জবাবদিহি আদায় করতেন।

আগামীর সময় : কখন মনে হয়েছিল, সরকার আর টিকে থাকতে পারবে না?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : ১৬ জুলাই আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিমসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যার পরই আমরা নিশ্চিত হই, সরকার আর বেশিদিন টিকতে পারবে না। এর আগে তারা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, কিন্তু এবার প্রকাশ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় মোড়।

এরপর আমরা সারা দেশের নেতাকর্মীদের ঢাকায় এসে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দিই। সেসময় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অন্য অঙ্গসংগঠনগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আগামীর সময় : আন্দোলনের সময় আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? যাত্রাবাড়ীর সেই দিনগুলোর কোনো স্মৃতি কি এখনো মনে পড়ে?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : জুলাইয়ের দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। প্রতিটি দিন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। সকালে বাসা থেকে বের হলে রাতে ফিরতে পারব কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।

যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নেওয়ার পর সেখান থেকেই প্রতিদিন কর্মসূচিতে অংশ নিতাম। যে বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম, সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাই যাত্রাবাড়ীর অনেক ঘটনাই ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

যাত্রাবাড়ীতে অবস্থান নেওয়ার পর সেখান থেকেই প্রতিদিন কর্মসূচিতে অংশ নিতাম। যে বাসায় আশ্রয় নিয়েছিলাম, সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে ছবি বা ভিডিও ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। তাই যাত্রাবাড়ীর অনেক ঘটনাই ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। ১৫ জুলাইয়ের পর টানা কয়েক দিন যাত্রাবাড়ী থেকে নয়াপল্টন, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে তখন আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে একটি বড় মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা সেখানে অংশ নেন। আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল সেই মিছিল।

আগামীর সময় : আন্দোলনের সময় আপনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই দিনের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? চোখের সামনে কি কাউকে শহীদ হতে দেখেছেন?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : ২০ জুলাই বিকাল ৪টার দিকে শনির আখড়ায় সবাই রাস্তা থেকে নিচে নামার জন্য ছুটতে থাকে। তাদের সঙ্গে আমিও নামি। কিছু বুঝে ওঠার আগে আমাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। চারদিকে শুধু গুলির শব্দ, মানুষের চিৎকার আর বাঁচার জন্য ছুটে চলা। অসংখ্য ছাত্রদলের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে নামে এবং আমাকে রক্ষা করে। নিচে নামার পর লক্ষ্য করি আমার ডান হাত এবং পা থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে। দ্রুত একটি ফার্মেসিতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিই। তখন কারা আহত হয়েছেন বা কারা শহীদ হয়েছেন, তা দেখার মতো ওই ধরনের পরিস্থিতি ছিল না। যাত্রাবাড়ীতে প্রতিদিনই গুলির শব্দ শোনা যেত। কোথা থেকে গুলি আসছে, অনেক সময় সেটিও বোঝা যেত না। পরে জেনেছি, ভবনের ছাদ ও জানালা থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। হেলিকপ্টার উড়লে মানুষ কাঁদানে গ্যাস বা সাউন্ড গ্রেনেডের আশঙ্কায় ভবনের নিচে আশ্রয় নিত।

আমাদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।

চোখের সামনে অসংখ্য মানুষকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত হতে দেখেছি। অনেককে আহত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, পরে জানতে পেরেছি তাদের অনেকেই আর বেঁচে নেই। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ আমরা সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

আগামীর সময় : আন্দোলনে বড় ভূমিকা রাখার পরও ছাত্রদল যথাযথ মূল্যায়ন পেয়েছে বলে মনে করেন?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : না, আমি মনে করি না। আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা অনেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মূল্যায়ন পাননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বসে তাদের অভিজ্ঞতা বা অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ আমরা দেখিনি। এটি কোনো একক দল বা সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল একটি জাতীয় গণঅভ্যুত্থান। তাই ইতিহাসও হওয়া উচিত সবার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে। ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগও ইতিহাসে যথাযথভাবে স্থান পাওয়া উচিত।

আগামীর সময় : জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিকে কীভাবে দেখেন?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : আমার বিশ্বাস, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের অর্জন নয়। এটি ছাত্র, সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের ফল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কেউ কেউ এটিকে নিজেদের একক কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। আমার মতে, ইতিহাসকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। যারা রাজপথে ছিলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন—সবার অবদানই সমান গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একদিন প্রকৃত ইতিহাসই জানবে।

আগামীর সময় : আন্দোলনের সময় যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেটি কি এখন আর নেই?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : আন্দোলনের সময় আমাদের সবার লক্ষ্য ছিল একটাই—স্বৈরাচারের পতন। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, বিভিন্ন সংগঠন নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থানে ফিরে গেছে।

আমি মনে করি, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবাইকে উদার হতে হবে। নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মাহফুজ আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকাও যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত।

তবুও আমি মনে করি, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সবাইকে উদার হতে হবে। নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মাহফুজ আলমসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ভূমিকাও যথাযথভাবে তুলে ধরা উচিত। ইতিহাসকে বাস্তবতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করতে হবে।

আগামীর সময় : ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার কাছে কতটা গর্বের?

রাকিবুল ইসলাম রাকিব : এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গর্বের অধ্যায়গুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন একটি ঐতিহাসিক সময়ের সাক্ষী হওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতি করেছি। সেই পথচলার মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এই অভিজ্ঞতা সবসময় গর্বের সঙ্গে স্মরণ করব।

রাকিবুল ইসলাম রাকিবজুলাই গণঅভ্যুত্থানছাত্রদলবিএনপিতারেক রহমান
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনায় নিহত ৩

    দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনায় নিহত ৩

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৩

    আরও ১০ সংসদীয় কমিটি গঠন, নেই বিরোধী দল

    আরও ১০ সংসদীয় কমিটি গঠন, নেই বিরোধী দল

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৪৭

    দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না

    দালাল বা এজেন্সির মিষ্টি কথায় ভুলবেন না

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮

    হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত

    হাজী আহমাদ ব্রাদার্সের সব কার্যক্রম স্থগিত

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৯

    চীনের ‘স্টেম’ জাদু, বদলাতে পারে বাংলাদেশও

    চীনের ‘স্টেম’ জাদু, বদলাতে পারে বাংলাদেশও

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫

    প্রকল্প শেষেই দিতে হবে ভালো-নষ্ট গাড়ির হিসাব

    প্রকল্প শেষেই দিতে হবে ভালো-নষ্ট গাড়ির হিসাব

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬

    তিন চাপে ফের নাজুক গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

    তিন চাপে ফের নাজুক গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৯

    চার নেতার ছায়ায় সাজ্জাদ বাহিনী!

    চার নেতার ছায়ায় সাজ্জাদ বাহিনী!

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৫

    নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না,  উদ্ধারে নতুন ইউনিট গঠনের দাবি

    নিখোঁজ সন্তানদের অপেক্ষায় স্বজনদের কান্না, উদ্ধারে নতুন ইউনিট গঠনের দাবি

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪০

    রমরমা ২৪ হিমায়িত কারখানায় তালা

    রমরমা ২৪ হিমায়িত কারখানায় তালা

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২২

    ইসরায়েলে বড় হামলার প্রস্তুতি ইরান ও মিত্রদের, দাবি তেল আবিবের

    ইসরায়েলে বড় হামলার প্রস্তুতি ইরান ও মিত্রদের, দাবি তেল আবিবের

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭

    ক্ষুদ্র উৎপাদক বেশি চট্টগ্রামে, বৃহৎ সিলেটে

    ক্ষুদ্র উৎপাদক বেশি চট্টগ্রামে, বৃহৎ সিলেটে

    ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:০৪

    ‘আমার পেশাকে ছোট করে দেখলে আমার পথ ছোট হয় না’

    ‘আমার পেশাকে ছোট করে দেখলে আমার পথ ছোট হয় না’

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৫

    পাটওয়ারীর লং মার্চের গাড়িটির মালিক তুষার আসলে কোন দলের?

    পাটওয়ারীর লং মার্চের গাড়িটির মালিক তুষার আসলে কোন দলের?

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৪

    পাখিপ্রেমী বুদ্ধ প্রামানিক

    পাখিপ্রেমী বুদ্ধ প্রামানিক

    ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৭

    advertiseadvertise