জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানি না

অভিনেতা শ্যামল মাওলা
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় আজিজ চরিত্রে দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
ফুটবল বিশ্বকাপে কতটা মজেছেন?
আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। সাদা-আকাশিদের খেলা নিয়মিতই দেখি। কাল কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটি দেখতে কিছু পরিকল্পনা করেছি। আশা করি, মেসি গোল দেবে আর আর্জেন্টিনাও জিতবে।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রসঙ্গে আসি। এটাই কি আপনার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য?
এক অর্থে সেরা সাফল্য বলা যায়। সিনেমাটি মুক্তির ১০০ দিন পূর্ণ করল প্রেক্ষাগৃহে। দর্শকের এই ভালোবাসা অমূল্য। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী থাকায় কি শুরুতে মনে হয়েছিল, আপনার চরিত্রটি গুরুত্ব হারাতে পারে?
সবসময় একটি ভালো প্রকল্পের সঙ্গে থাকতে চাই। প্রথমে দেখেছি গল্পটা কেমন, আমার চরিত্রটির মধ্যে আলাদা কিছু আছে কি না। মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী উঁচুমানের অভিনেতা, সেটা সবারই জানা। তবে চিন্তা ছিল আমার অংশটুকু কতটা ভালো করতে পারব। যখন বুঝলাম চরিত্রটি ভালোভাবে দাঁড়িয়েছে এবং আমার দক্ষতা দেখানোর মতো জায়গা আছে, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত হবো।
কোনো চরিত্র দর্শকের কাছে দারুণ গ্রহণযোগ্যতা পেলে অভিনেতার পরের যাত্রা কেমন হওয়া প্রয়োজন?
আমরা তো সবসময় সব কাজ ভালো করতে পারি না। বছরে যদি ১০টি কাজ করি, তাহলে হয়তো সেগুলোর মধ্যে তিন-চারটি খুব ভালো হতে পারে। বাকিগুলো হয়তো নানা কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাঁড়ায় না। কোনো কাজ দর্শকের কাছে খুব ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হলে পরবর্তী কাজ নিয়ে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তখন ভাবতে হয়, দর্শকের সামনে এরপর কী ধরনের কাজ নিয়ে আসব। সেই দায়িত্ববোধ প্রতিদিন টের পাওয়া যায়।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ আজিজ ও তার মেয়ের সম্পর্ক আবেগঘন। বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা আজিজ চরিত্রে অভিনয়ে কাজে লেগেছে?
বাবা তো সবারই বাবা। আমার বাবা যেমন ছিলেন, অন্য কারও বাবাও তেমনই। আমার মেয়েকে যেভাবে ভালোবাসি, পৃথিবীর প্রত্যেক বাবাই তার মেয়েকে সেভাবেই ভালোবাসেন। এসব অনুভূতি খুব স্বাভাবিক এবং সর্বজনীন। সেই অনুভূতিই নিজের চরিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমি বাস্তবে মেয়ের বাবা হওয়ার পরপরই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার শুটিং শুরু হয়। তখন আমার নিজের ভেতরে বাবা হওয়ার অনুভূতি খুব তাজা ছিল। ফলে বাবা-মেয়ের আবেগ, সংযোগ এসব অনুভব করা সহজ হয়েছে। সেই সংযোগ ঠিকঠাক ছিল বলেই দৃশ্যগুলোর শুটিং করতে সুবিধা হয়েছে। সিনেমায় আমাদের পরিবারের রসায়ন সবাই বেশ পছন্দ করেছেন। মেয়ের চরিত্রে তৃধা পাল মান ও স্ত্রীর চরিত্রে মমর প্রশংসাও আলাদাভাবে এসেছে।
ওটিটির বর্তমান অবস্থা কেমন দেখছেন?
এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। আগে অনেক প্ল্যাটফর্ম ছিল, অনেক কাজ হতো। এখন প্ল্যাটফর্মও কম, কাজও কম। আগে হয়তো বছরে ১০টি কাজ হতো, এখন দুটি হয়। তাই কাজের সুযোগও অনেক কমে গেছে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিসহ অনেক কিছু মিলিয়ে ওটিটিতে কাজ কম হয়েছে। তাই আমার কাজও কমেছে।
নাটক থেকে দূরে সরে গেছেন?
না, নাটক থেকে দূরে যাইনি। এখনো নাটক করছি। তবে আগের তুলনায় কম করি, কারণ সময়টা ভাগ করে নিতে হয়। আগে শুধু নাটকই ছিল। এখন ওটিটি এবং সিনেমা আছে। ফলে কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। তাই নাটক করি, তবে আগের মতো নিয়মিত নয়। কয়েক দিন আগে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের জন্য ‘মনপুরুষ’ নামে একক নাটকের কাজ করেছি। এতে আমার সহশিল্পী প্রিয়ন্তী উর্বী ও শেরতাজ জেবিন। আবুল হায়াত আংকেলও আছেন গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে।
ওটিটিতে নতুন কাজের খবর কী?
কিছু কাজ করেছি। সামনে সেগুলো আসবে। তবে এখনই কিছু বলতে পারছি না। কারণ বারণ আছে। সময় এলে নির্মাতারাই জানাবেন। নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্টদের কোনো পরিকল্পনা আছে। তাই এখন কিছু বলছি না।
মঞ্চ কি এখনো টানে?
এখন মঞ্চে খুব একটা সময় দেওয়া হয় না। আমি উত্তরায় থাকি। সেখান থেকে নিয়মিত শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে মঞ্চ করা একটু কঠিন হয়ে যায়। যদি কাছাকাছি হতো, তাহলে হয়তো আরও বেশি যাওয়া যেত। তবে ভবিষ্যতে আবারও মঞ্চে ফেরার ইচ্ছা আছে। জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানি না। অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই। সেটা মঞ্চ, নাটক, ওটিটি কিংবা সিনেমা— যেখানেই হোক।




