আগামীর চোখ
ধন্যবাদ, ডাকাতি করতে দিলেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
শ্রদ্ধেয় গৃহস্থ ভাই,
শুভেচ্ছা নেবেন। আশা করি, গত রবিবার রাতের টানটান উত্তেজনার পর আজ সকালে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছেন। আমরা কিন্তু আপনাদের ঘুমানোর পুরো সুযোগ করে দিয়েই ভোরের আলো ফোটার আগে বিদায় নিয়েছি।
পত্রের শুরুতে একটি বাংলা প্রবাদ মনে করিয়ে দিতে চাই— ‘চোরকে বলে চুরি করো, গেরস্তকে বলে সজাগ থাকো।’ সন্ধ্যার পুলিশি সভার পর এই প্রবাদের গুরুত্ব নিশ্চয়ই আপনারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন?
ভাইরে, আপনারা তো সন্ধ্যায় দিব্যি রামুর পানেরছড়ায় গিয়ে পুলিশের গরম গরম বক্তৃতা শুনলেন। অপরাধ দমনের নাকি জোয়ার বইবে! আপনারা যখন ওসির আশ্বাসে হাততালি দিচ্ছিলেন, আমরাও তখন সেখানে বসেই হাততালি দিচ্ছিলাম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আপনাদের ওই ‘মতবিনিময় সভা’ আমাদের জন্য যে কতটা বড় গ্রিন সিগন্যাল ছিল, তা তো ভোর ৫টার অ্যাকশনেই প্রমাণ করে দিলাম। আপনারা যখন সভার পর নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলেন, আমাদের মনে তখন বসন্ত... মনে মনে গেয়ে উঠলাম— ‘ওরে গৃহবাসী, খোল্ দ্বার খোল্, লাগল যে দোল।’ তারপর আমাদের সেই বিশেষ ‘ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের’ আলোকেই ‘কমিউনিটি কার্যক্রম’ জোরদার করতে আপনাদের চারটি বাড়িতে হাজির হলাম।
আপনারা ভাবছেন আমরা ডাকাত? উঁহু, আমরা আসলে আপনাদের সচেতন নাগরিক। আমরা এসে শুধু পরীক্ষা করে গেলাম— সন্ধ্যার সভার পর আপনাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে। ফলাফল? অস্ত্রের মুখে আপনারা যেভাবে সোনাদানা আর নগদ টাকা আমাদের হাতে তুলে দিলেন, তাতে আপনাদের অতিথিপরায়ণতায় আমরা মুগ্ধ। আজকের দিনেও দেশীয় অস্ত্রের সামান্য ভয়েই এত সুন্দর সহযোগিতা সচরাচর দেখা যায় না।
তবে ওসি সাহেবকে কিন্তু দোষ দেবেন না। উনি তো ঠিকই বলেছিলেন, জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে। আমরাও তো ‘জনগণ’ হিসেবে আপনাদের সঙ্গে একটু বেশিই ‘সম্পৃক্ত’ হয়ে গেলাম, এই যা! আমাদের এই ভোররাতের অভিযান পুলিশ প্রশাসনের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, বরং তাদের সভার একটি সফল প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস।
যাই হোক, মালামাল যা নেওয়ার নিয়েছি। ঘরের জিনিসপত্র গোছগাছ করে রাখুন। পুলিশ এসে এখন শুধু ‘তদন্ত ও অভিযান’ নামক চোর-পুলিশ খেলা খেলবে। পারলে পরবর্তী সভার আগেই এলাকার সিসি ক্যামেরাগুলো ঠিকঠাক করে রাখবেন, যাতে পরেরবার আমাদের ছবিগুলো একটু ঝকঝকে আসে।
সাবধানে থাকবেন। সজাগ থাকবেন। আবার দেখা হবে! ভয় পাবেন না, সহযোগিতা করবেন।
ইতি
ডাকাত দলের জনৈক সদস্য




