প্রশ্নের আবার নতুন-পুরনো কী!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়,
দেশ জুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। কেন্দ্রের চারদিকে এক যুদ্ধ যুদ্ধ আবহ! দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরা বুকে ঝুলিয়ে চোর ধরার মতো করে ঘুরছেন। ঢাকা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরায় লাইভ মনিটরিং হচ্ছে— ডিজিটাল যুগে নকল থামানোর এই তোড়জোড় দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। শিক্ষার্থীরাও এত কড়া পাহারায় বেশ সতর্ক। আর এই অতি-সতর্কতার চোটেই নরসিংদীর মনোহরদীর খিদিরপুরের এক পরীক্ষার্থী বাড়ি ফিরে আবিষ্কার করল, আপনাদের ‘স্মার্ট’ শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র ফাঁকি দিয়েছেন! ২০২৬ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের প্রশ্ন। অবশ্য ততক্ষণে চার শতাধিক শিক্ষার্থী সেই ঐতিহাসিক প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি চলে গেছে।
বডি-ওর্ন ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের জুতার তলা আর পকেটের ভেতরের নকল খুঁজতে খুঁজতে আপনাদের দায়িত্বপ্রাপ্তরা যে বস্তা থেকে নতুন প্রশ্ন বের করার কথাই ভুলে গেলেন, তা বোধ হয় সিসিটিভিতে ধরা পড়েনি। তবে যাক, বেঁচে গেছেন। এটা তো আর শিক্ষার্থীর ‘নকল’ করার অপরাধ নয়। এটা তো কেবলই সিস্টেমের একটা ‘ক্ষুদ্র’ ভুল!
বাচ্চারা পুরনো প্রশ্ন দেখে এসো আর নকল করা লাগবে না
তা ছাড়া পুরনো প্রশ্নে পরীক্ষা দিলে কি আর পরীক্ষা হয় না? আলবত হয়! প্রশ্নের আবার নতুন আর পুরনো কী? পোলাপান যে পরীক্ষা দিতে পারছে, এটাই তো পরম সৌভাগ্যের বিষয়। আপনার খতিয়ানই বলছে, এবারের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশই পরীক্ষায় বসার সাহস পায়নি! সোয়া চার লাখের বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থী স্রেফ নাই হয়ে গেল! আমার সন্তান যে অন্তত কেন্দ্রে গিয়ে একটা প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে বেঞ্চে বসতে পেরেছে, আমি তো নিজেকে মহাসৌভাগ্যবান মনে করছি। প্রশ্ন পুরনো হলেইবা কী, পরীক্ষাটা তো দিতে পেরেছে!
আমার ছয় বছর বয়সী ছোট বাচ্চাটা কী করে যেন আপনার সেই বিখ্যাত ডায়ালগ মুখস্থ করে ফেলেছে— ‘বাচ্চারা পড়তে বসো, নকল আর হবে না...।’ চিঠিটা লেখার সময় সে পাশে বসে অনবরত এটা আউড়ে যাচ্ছিল। ওর আধো-আধো বুলি শুনে মনে হলো, মনোহরদীর ঘটনার পর ডায়ালগটা একটু এডিট করে এভাবেও বলা যায়— ‘বাচ্চারা পুরনো প্রশ্ন দেখে এসো, আর নকল করা লাগবে না।’
প্রতি বছর নতুন প্রশ্ন করা, তা সিলগালা করা, ট্রাঙ্কে ভরে কেন্দ্রে পাঠানো— এই ঝামেলার কাজটা বন্ধ করে দিয়ে পুরনো প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়ার পাকাপোক্ত চল শুরু করে দিতে পারেন।
ইতি
একজন অভিভাবক




