লোডশেডিং কমাতে করণীয়

প্রতীকী ছবি
লোডশেডিংয়ে শুধু নাগরিক ভোগান্তিই বাড়ে না, জাতীয় অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা যখন উৎপাদনের চেয়ে বেশি হয়, তখনই লোডশেডিংয়ের দরকার পড়ে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি এর অন্যতম কারণ।
এই সংকট নিরসনে একজন সচেতন নাগরিকও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। অপ্রয়োজনে বাতি, ফ্যান, এসি চালিয়ে রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এলইডি বাতি এবং বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ বাঁচানো সম্ভব। প্রতিটি পরিবারের এমন ছোট ছোট সচেতনতাই জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ সংযোগ আমাদের দেশের অন্যতম বড় সমস্যা। অবৈধ সংযোগের কারণে গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা বৈধ গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই কঠোর আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চুরি রোধ করা জরুরি।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘সিস্টেম লস’। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বড় অংশ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই অপচয় হয়ে যায়। এই অপচয় ও কারিগরি ঘাটতি কমাতে পারলে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াই সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। এ ছাড়া বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালে দিনের বেলার সিংহভাগ চাহিদা মেটানো সম্ভব, যা গ্রিডের চাপ কমাবে। লোডশেডিং কমানো শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। জনগনের সম্মিলিত প্রয়াসই পারে আমাদের লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে।
লেখক: চাকরিজীবী, ঢাকা




