বর্জ্য থেকেই হতে পারে বিদ্যুৎ

সংগৃহীত ছবি
দেশের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নামিয়ে এনেছে। কখনো কখনো ২০ মিনিট, আবার কখনো আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে গরমের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, রোগী, বৃদ্ধ, শিশুরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবিলায় এখনই বিকল্প উৎসের দিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এর মধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতিটি শহরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি, বাজার ও শিল্পকারখানার বর্জ্য জমা হয়। এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় পরিবেশ দূষিত হয় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। অথচ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব। বিশ্বের অনেক দেশ এরই মধ্যে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এতে যেমন বিদ্যুতের নতুন উৎস তৈরি হয়, তেমনি শহরও পরিচ্ছন্ন থাকে।
শুধু শহরে বর্জ্য সংগ্রহ করে আধুনিক বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যায়, তাহলে একদিকে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে ময়লার সঠিক ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে। এতে পরিবেশদূষণ কমবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমে আসবে, যা পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
শুধু সরকার নয়, বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সহজ হবে। আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করবে। যাতে জনগণ লোডশেডিং থেকে মুক্তি পায়।
লেখক: আহ্বায়ক, আলেয়া সুলতানা স্মৃতি পাঠাগার, ফরিদপুর




