কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ, বাসে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পাইপ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করতে নন এসি বাসের জানালার মাঝ বরাবর বসানো স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
তবে নির্দেশনা জারির কয়েক মাস পরও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসে সেই পাইপ আগের মতোই বহাল রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত বের হওয়া এবং উদ্ধারকাজে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
গত ২৭ এপ্রিল বিআরটিএ এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক, মহাসড়ক, ফেরিঘাট বা রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার সময় অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীরা দরজা বা জানালা দিয়ে দ্রুত বের হতে না পারায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ কারণে এসি বাসে দৃশ্যমান স্থানে জরুরি বহির্গমন পথ চিহ্নিত করা, জানালার কাচ ভাঙার সরঞ্জাম রাখা এবং নন এসি বাসের জানালার মাঝখানে থাকা স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী বাসে দেখা গেছে, অধিকাংশ নন এসি বাসের জানালায় এখনো সেই পাইপ রয়েছে। কোথাও পর্দা ঝোলানোর অজুহাতে পাইপ রাখা হয়েছে, আবার অনেক বাসে পর্দা না থাকলেও পাইপ খুলে ফেলা হয়নি। এমনকি বিআরটিসির বাসেও এই পাইপ অপসারণ করা হয়নি।
বাসে যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মাজহারুল। বললেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিআরটিএর নির্দেশনার বিষয়টি দেখেছিলেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান তদারকি বা অভিযান দেখেননি।’
তার ভাষ্য, নির্দেশনাটি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
বাসে নিয়মিত যাতায়াত করা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শামসুন্নাহার উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার সময় বাস উল্টে গেলে বা আগুন লাগলে জানালাই যাত্রীদের বের হওয়ার একমাত্র পথ হয়ে ওঠে। কিন্তু জানালার মাঝখানে থাকা স্টেইনলেস স্টিলের রড দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ নষ্ট করে এবং উদ্ধারকাজেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু নির্দেশনা জারি করলেই হবে না। এর কার্যকর বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, পরিবহন মালিকদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন একাধিক যাত্রী।
গণবিজ্ঞপ্তি জারি হলেও বাস্তবে কেন প্রয়োগ নেই— সে বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় বিআরটিএর অডিট ও আইন শাখার পরিচালক রুবাইয়াৎ-ই-আশিকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, তার শাখা মূলত আদালত ও মামলা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করে। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
বিষয়টি জানতে চাওয়া হয় বিআরটিএর উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিলের কাছে। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তার শাখার আওতাভুক্ত নয়।
অন্যদিকে বিআরটিএর রোড সেফটি দপ্তরের উপপরিচালক সুবীর কুমার সাহা মন্তব্য করেন, পর্দা আটকানোর স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ অপসারণের নির্দেশ কোন শাখা থেকে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
রাজধানীর ভিআইপি বাসের চালক ধলু বর্মণ উল্লেখ করেন, যাত্রীদের রোদ থেকে সুরক্ষা দিতে পর্দা ঝোলানোর জন্যই এই পাইপ ব্যবহার করা হয়। পর্দা আটকানোর রড রাখা যাবে না, এমন কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। বিষয়টি প্রথমবারের মতো জানতে পেরেছেন এবং বাসমালিককে জানাবেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল ইসলামও দাবি করেন, বিআরটিএর এমন কোনো লিখিত নির্দেশনা তাদের কাছে পৌঁছেনি। তার ভাষ্য, বিষয়টি সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমিতির আসন্ন সভায় এটি আলোচনায় তোলা হবে।






