ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্প : একেকজনের পেছনে ১৩৩০০০ টাকা ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ১৩ সিটি করপোরেশন এলাকার ৫০ হাজার ১০০ জন যুব ও যুবনারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার। এজন্য ‘দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ নামের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। সেই হিসাবে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য ব্যয় হবে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬ টাকা করে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। সেই সভায় এই ব্যয়সহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিইসিতে প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানান, প্রকল্পটি দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের ৫০১টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত হবে। সিটি করপোরেশনগুলো হলো- ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লা।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাঁচ বছরে সর্বমোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচে (প্রতি ব্যাচ ২৫ জন, ৩ মাসমেয়াদি) চাহিদাভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং/আইটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া গ্রাফিকস ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ভিডিও এডিটিং, কম্পিউটার বেসিকসহ চাহিদাভিত্তিক ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণ শেষে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান বা আত্মোকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। প্রতিটি ব্যাচের সমাপনীতে কাঠামোবদ্ধ মূল্যায়ন এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশ্ন ব্যাংকভিত্তিক প্রশিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত যুব-যুবনারীর দেশীয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটবে।
ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে নানা প্রশ্ন
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, দেশের ১৩টি মহানগরে মোট ব্যয়ের মধ্যে শুধু প্রশিক্ষণ খাতে খরচ হবে ৬৬৯ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এ অর্থে ৫০ হাজার ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৬ টাকা করে। এই ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি এবং সব মহানগরীতে একই রকম ব্যয় প্রাক্কলনের বিষয়ে সভায় প্রশ্ন তোলা হবে।
এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণভাবে অনূর্ধ্ব ৩ বছর রাখার জন্য পরিপত্রে নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ৫ বছর। এ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়বেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তারা বলছেন, প্রশিক্ষিতদের প্রকল্প-পরবর্তী সময়ে ফলোআপ, কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, মার্কেটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও টেকসইকরণ কীভাবে হবে সেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে সমজাতীয় প্রকল্পের ফলাফল বিবেচনা করা হয়েছে কি না সেটিও জানতে চাওয়া হবে।
তারা জানিয়েছেন, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রকল্পের উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট, পরিমাপযোগ্য, অর্জনযোগ্য এবং প্রাসঙ্গিক হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পে ব্যত্যয় রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে মানদণ্ড, যুগোপযোগী ও বাস্তব চাহিদার নিরিখে নির্ধারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হবে।









