হরমুজ স্বাভাবিক করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য বললেন ভ্যান্স, তেলের দাম আরও বাড়ল

ইরানের বন্দর আব্বাসের কাছে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের দৃশ্য, ২৫ আগস্ট ২০২৬। ছবি : রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের এই পর্যায়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সোমবারের এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেছেন, রবিবার লারাক দ্বীপে হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন পাতা ঠেকানো।
তিনি অভিযোগ করেন, তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করে ইরানের নেতৃত্ব ‘কৌশলগতভাবে খুব একটা বিচক্ষণতার পরিচয় দিচ্ছে না’।
ভ্যান্স বলেছেন, ‘আমার কাছে বিষয়টি অদ্ভুত লাগে। তারা কখনো কখনো শুধু তেল ও গ্যাসের অবাধ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের মিত্রদের ওপরও হামলা চালায়।’ তিনি ইরানের নেতাদের ‘সত্যিই পাগল’ বলেও মন্তব্য করেন।
ভ্যান্স দাবি করেছেন, তেহরান এমন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ওয়াশিংটন আগেই ধারণা করেছিল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় মঙ্গলবারও অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর এশিয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহার করে এশিয়া। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অঞ্চলটি প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল কম তেল আমদানি করছে। এতে মজুতও দ্রুত কমছে।
কেপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এশিয়ায় হালকা ও মাঝারি ধরনের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি দৈনিক ৫১ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। জুলাইয়ে এই পরিমাণ ছিল ৫৬ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে তিন মাসের গড় আমদানি ছিল দৈনিক ৭০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার পরিমাণের সঙ্গে বর্তমান ঘাটতি প্রায় মিলে যাচ্ছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর এশিয়ার চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা এখনো রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা এবং এশিয়ায় তেল পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জাহাজ না থাকায় সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।
সূত্র : আলজাজিরা ও রয়টার্স








