মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে স্কেল
কোন গ্রেডে কত বেতন হচ্ছে
- ২০তম গ্রেডে মূল বেতন হচ্ছে ২০ হাজার টাকা
- ১ম গ্রেডে মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে স্কেলের রূপরেখা এখন চূড়ান্ত হওয়ার পথে।
নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন গ্রেডে (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ১৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে (১ম গ্রেড) বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক এখনো চলছে।
সূত্রটি জানায়, নবম বেতন স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের পহেলা জুলাই থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ধাপগুলো বাস্তবায় করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে। আর সব ধরনের ভাতা আগামী ২০২৮ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এমন হিসাব ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তুত করেছে প্রতিবেদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে মন্ত্রিপরিষদে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির মূল চিত্র
সর্বনিম্ন গ্রেড (২০তম গ্রেড): বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা মূল বেতন থেকে ১৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ।
সর্বোচ্চ গ্রেড (১ম গ্রেড): বর্তমানের ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন থেকে ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।
মধ্যবর্তী গ্রেডগুলো: ১ থেকে ২০ গ্রেডের অন্যান্য ধাপেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে আনুপাতিক হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত এই রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রভাব নিয়ে আলোচনা
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজারদরে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই বেতন বৃদ্ধি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।
দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার কারণে নির্ধারিত বেতনে চলা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। সরকারের এই পদক্ষেপে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি কাজের গতিও আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব বাজেটে নিয়মিত ব্যয় বাড়লেও তা জনসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।
তবে ২০ লাখের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুললে বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বড় চাপ ফেলবে বলেও আলোচনা রয়েছে।







