র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। ছবি: ফ্রেন্ডশিপের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
এশিয়ার নোবেলখ্যাত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় যোগ হলো আরেক বাংলাদেশির নাম। চতুর্দশ বাংলাদেশি হিসেবে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।
আজ সোমবার র্যামন ম্যাগসাইসাই ফাউন্ডেশনের ফেসবুক পেজে ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এই পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি।
র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন বলছে, ২০২৬ সালের বিজয়ীদের এমন কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এসব মূল্যবোধের মধ্যে রয়েছে অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে নিতে সহায়তা করা।
এবার পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে পুরস্কারজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান বলেছেন, অত্যন্ত আনন্দ ও গভীর বিনয়ের সঙ্গে আমি র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার গ্রহণ করছি। এটি আমার জন্য পরম সম্মানের। পুরস্কারটি আমি সেইসব সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করছি, যারা আমাদের তাদের পাশে চলার সুযোগ করে দেন। একই সঙ্গে আমার ফ্রেন্ডশিপ পরিবারের পক্ষ থেকেও এটি গ্রহণ করছি, যাদের অক্লান্ত নিষ্ঠা প্রতিদিন এই কাজকে সম্ভব করে তোলে।
তিনি আরও বলেছেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে আমার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং বিশ্বাস করে আমার সঙ্গে প্রায় অসম্ভব এই পথ চলেছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যমূলক সংস্থা (এসপিও)। এর লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়া যেখানে মানুষ— বিশেষ করে দুর্গম ও উপেক্ষিত জনগোষ্ঠী মর্যাদা ও আশার সঙ্গে জীবনযাপনের সমান সুযোগ পাবে।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপিন্সের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান। একই বছর র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৮ সালে তার নামে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
৩১ আগস্ট র্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিন। এবার তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রতিবছরের ৩১ আগস্ট তার জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
১৯৫৮ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৫৬ ব্যক্তি ও সংস্থা এ পুরস্কার পেয়েছে। এরমধ্যে ফিলিপাইন ৬৬, ভারত ৬০, ইন্দোনেশিয়া ৩০, জাপান ২৮, থাইল্যান্ড ২৫, চীন ১৮, দক্ষিণ কোরিয়া ২০, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ১৩, মালয়েশিয়া ১১, শ্রীলঙ্কা ও তাইওয়ান ১০, কম্বোডিয়া ৮, মিয়ানমার ৭, ভিয়েতনাম ও হংকং ৬, নেপাল ৫, লাওস ৪, তিমুর-লেস্তে-আফগানিস্তান-সিঙ্গাপুর ৩, ভুটান-মালদ্বীপ-তিব্বত ১ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ৪বার পেয়েছে এ পুরস্কার।
১৯৭৮ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ পুরস্কার জয় করেন তাহরুন্নেসা আবদুল্লাহ। এরপর এ পুরস্কারজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ফজলে হাসান আবেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, মতিউর রহমান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ফিরদৌস কাদরী। সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ পুরস্কার জয় করেন করভী রাখসান্দ।








