এ বঞ্চনার শেষ কোথায়?
- অন্যান্য ক্যাডারে প্রায় প্রতিবছর পদোন্নতি হলেও বিসিএস শিক্ষায় ৫বছরে একবার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ষষ্ঠ গ্রেডে (সিনিয়র স্কেল) পদোন্নতির চিত্র গত পাঁচ বছরে মোটামুটি নিয়মিত। ২০২২ সালে ১১৭ জন, ২০২৩ সালে ২৭০ জন, ২০২৪ সালে ২০১ জন এবং ২০২৬ সালে ২৬৪ জন কর্মকর্তা এই গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। একই সময়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬— এই চার বছরের একটিতেও ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। কেবল ২০২৫ সালে একবারে ১৮৭০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা প্রকৃতপক্ষে বছরের পর বছর জমে থাকা জটের একলপ্তে নিষ্পত্তি, নিয়মিত প্রশাসনিক ছন্দের প্রতিফলন নয়। একটি ক্যাডারে পদোন্নতি একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে চলে, আরেকটিতে তা নির্ভর করে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আসা বিচ্ছিন্ন এক-একটি সিদ্ধান্তের ওপর। এই ফারাকই প্রমাণ করে, সমস্যার মূল সম্পদের সংকটে নয়, অগ্রাধিকারের বিন্যাসে।
এখানে আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা অন্য যেকোনো ক্যাডারের তুলনায় সর্বোচ্চ। প্রতিটি ব্যাচেই এই ক্যাডারে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কর্মকর্তা যুক্ত হন, কারণ দেশের সরকারি কলেজগুলোর বিশাল শিক্ষক চাহিদা এই ক্যাডারের মাধ্যমেই পূরণ হয়। ফলে যুক্তিসংগতভাবেই প্রত্যাশা করা যায়, পদোন্নতির সংখ্যাও নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। নিয়োগে যে ক্যাডার সবচেয়ে বড়, পদোন্নতিতে সেই ক্যাডারই যদি সবচেয়ে ক্ষুদ্র বা অনিয়মিত সংখ্যায় স্বীকৃতি পায়, তাহলে তা কেবল একটি প্রশাসনিক অসংগতি নয়, বরং একটি কাঠামোগত বৈষম্য। প্রশাসন ক্যাডারের তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের বিপরীতে যে বার্ষিক পদোন্নতির ছন্দ বজায় থাকে, শিক্ষা ক্যাডারের বিশাল জনবলের বিপরীতে অন্তত সেই আনুপাতিক ছন্দ থাকা উচিত ছিল। বাস্তবে ঘটছে ঠিক তার উল্টো: সবচেয়ে বড় ক্যাডারটিই পদোন্নতির প্রশ্নে সবচেয়ে অবহেলিত। এই আনুপাতিক অসামঞ্জস্য দূর না হলে সংখ্যার হিসাবে যেকোনো একবারের বড় পদোন্নতিও (যেমন ২০২৫ সালের ১৮৭০ জন) প্রকৃত বৈষম্য আড়াল করার একটি ভুল ইঙ্গিত দিতে পারে।
একজন শিক্ষক যখন বছরের পর বছর একই পদে দায়িত্ব পালন করেন, তখন তার পদোন্নতি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিষয় থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে তার পেশাগত স্বীকৃতি, সামাজিক মর্যাদা, কর্মপ্রেরণা এবং রাষ্ট্রের কাছে তার অবদানের মূল্যায়ন। অথচ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পদোন্নতির প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। কখনো শূন্য পদ, কখনো পদসংকট, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, কখনো আর্থিক সংশ্লেষের প্রশ্ন সামনে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর মেলে না। যাদের পদোন্নতি প্রাপ্য, তাদের পদোন্নতি আটকে থাকার প্রকৃত কারণটি কী?
মক্কা জোটে যোগ দেওয়া জরুরি নয়





