ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ফের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানে বিস্ফোরণের ঘটনায় ধোঁয়া উঠছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
বেশ কিছুদিন শান্ত থাকার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। স্থানীয় সময় রবিবার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
ইরান দাবি করেছে, ‘আগ্রাসনকারীর শাস্তি’ অভিযানে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে জর্ডান বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্রই ভূপাতিত করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর দুপক্ষই নতুন করে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এর মধ্যে আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি। ফলে সংঘাত আরও বড় আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানে হামলা পরিচালনা করা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের পর ইরানে এটিই প্রথম মার্কিন হামলা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্স বলেছেন, আইআরজিসির সদস্যদের হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, রবিবারের মার্কিন হামলায় কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। এর পরই তারা ‘জবাব ও শাস্তি’ দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি।
এর কিছুক্ষণ পর জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় ঢুকে পড়া আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর তা স্থগিত করেছিলেন।
লারাক দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর আব্বাসের কাছেই। এটি হরমুজ প্রণালির ওপর অবস্থিত। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়।
আইআরজিসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে হামলাটি ড্রোন দিয়ে চালানো হয়েছিল। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।
বর্তমানে ইরান ট্যাংকারগুলোকে লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তল্লাশি করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রণালি পার হওয়ার জন্য জাহাজগুলোকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি মার্কিন হামলাকে ট্রাম্প সরকারের ‘কৌশলগত ও ভয়াবহ ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ভুলের পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক— দুই ক্ষেত্রেই ভোগ করতে হবে।
কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সংবাদমাধ্যমে আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের অবস্থান।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে ইরান যেসব মাইন বসিয়েছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত করে ধ্বংস করা হয়েছে অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান মাইন বসানোর চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করা হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।
তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘প্রচারমূলক’ ও বিভ্রান্তিকর দাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র : আলজাজিরা ও বিবিসি








