যেখানে সংকট সেখানেই বাবলু

বেকার যুবক মো. নয়নকে ভ্যান উপহার দেন বাবলু
একজন বেকার যুবক একটি ভ্যান পেলে রোজগার করে পরিবার চালাতে পারবেন। তিনি খবর পেয়ে তাকে উপহার দিলেন নতুন ভ্যান। কোথাও দরিদ্র-অসহায় পরিবারের একটি ভাঙাচোরা ঘর মেরামত করা দরকার, সেখানে ঢেউটিনসহ মেরামতসামগ্রী নিয়ে হাজির। আবার কোথাও মাদ্রাসার ভবন সংস্কার, আগুনে পুড়ে যাওয়া বস্তিতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, বন্যার্তদের খাবার সরবরাহ, শীতবস্ত্র বিতরণ— সব জায়গায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জালাল উদ্দিন বাবলু।
১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ফেনীতে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে করে যাচ্ছেন একের পর এক মানবিক কাজ।
বাবলুর ভাষ্য, এ পর্যন্ত তিনি দরিদ্র-অসহায়দের ১০টি নতুন ঘর নির্মাণ ও ১৫টি ঘর মেরামত করে দিয়েছেন। উপহার দিয়েছেন ১২টি রিকশাভ্যান ও ১০টি রিকশা। আটটি মাদ্রাসা ভবন সংস্কারে দিয়েছেন অনুদান। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ লাখ টাকার বেশি বৃত্তি দিয়েছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুঁজি দিয়েছেন ১২ জনকে; তারা সবাই এখন স্বাবলম্বী। বেশ কয়েকজন গরিব মেয়ের বিয়েতেও করেছেন সহায়তা। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচিতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
স্থানীয় সংগঠন ‘ফেনী স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ’-এর সভাপতি ফয়জুল হক বাপ্পি বলেছেন, গত দেড় বছরে সংগঠনটির অন্তত ৬০টি ছোট-বড় কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়েছেন বাবলু।
ফেনী সদরের মোটবী ইউনিয়নের বেদরাবাদ শিলুয়ার মো. নয়ন ও পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের মাথিয়ারা গ্রামের মো. এনাম জানালেন, বাবলু তাদের ভ্যান কিনে দিয়েছেন। তারা এখন ভ্যানে ফল ও সবজি বিক্রি করে সংসার চালাতে পারছেন।
ফুলগাজীর মুন্সীরহাট কামাল্লা দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক মো. আকবর হোসেন জানালেন, ‘বাবলু এ মাদ্রাসায় মাঝেমধ্যে রান্না করা খাবার পাঠান, চাল সহায়তা দেন। আমরা কখনো তার কাছে সহযোগিতা চেয়ে খালি হাতে ফেরত আসিনি।’
নানা মানবিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাবলু বললেন, ‘চারপাশে সংকটে আছেন অনেক মানুষ। সামর্থ্য অনুযায়ী এসব অনগ্রসর মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। এতে আনন্দ পাই।’







