নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন ‘এ সপ্তাহেই’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। ছবি: ভিডিও থেকে
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন এই সপ্তাহেই হবে।
সচিবালয়ে আজ সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নবম বেতন কাঠামো অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই বৃদ্ধিতে সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগামী দুই অর্থ বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। তা কার্যকর করা হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন কবে নাগাদ জারি হতে পারে- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে।’
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরে আইনগত ভেটিং শেষে কয়েকটি বিষয় এসআরও জারি করা হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়েও এখনই বিস্তারিত জানাতে চাননি তিনি। এ-সংক্রান্ত এসআরও জারি হওয়ার পর বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে বলে জানান তিনি।
মূল বেতন ৩ ধাপে, ভাতা কার্যকর ২০২৮ সালে
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জাতীয় বেতন স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে।
প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এজন্য অর্থবছরের বাজেটে আলাদা অর্থ সংস্থান রাখা হবে।
নাসিমুল গনি বলেন, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ ও আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭
সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি
থেকে ভাতাগুলো একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিন ধাপের সুনির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাহলে হয়তো ৬ মাসের একটা প্রথমের থেকে চলে যাবে, এই জুলাই থেকে ইফেক্টিভভাবে। ৬ মাস পরে যে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে, আর লাস্টে গিয়ে আরেকটা ইফেক্টিভ হবে।’
২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিন ধাপে বাস্তবায়ন হয়ে যাবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০২৮ সাল থেকে বেতন-ভাতাসহ পূর্ণ সুবিধা কার্যকর হবে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল। এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আর কোনো বেতন কাঠামো হয়নি। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার নতুন বেতন কাঠামো হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘১২ বছর ধরে বেতন বৃদ্ধি ঘটেনি। ৫ বছর অন্তর যেখানে পে স্কেল চেঞ্জ হয়, সেখানে এটা ১২ বছরে হয়নি। তো তাদের জন্যও এটা খুব কষ্টকর এবং জীবনযাত্রার মানও কমে গেছে অনেক। সেটিকে বিবেচনায় রেখে একটা ব্যালান্স করে, এই উভয় দিকে ব্যালান্স করে যেটুকু করা যায় সেটাই করা হয়েছে।’
নিম্ন গ্রেডে বেশি বৃদ্ধি
নতুন বেতন কাঠামোতে আগের মতোই ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডে বেতন বেড়েছে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ। তবে নিচের গ্রেডগুলোতে বেতন বেশি বেড়েছে।
২০টি গ্রেডের মধ্যে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ১২তম গ্রেডে ১১৫ শতাংশ, ১৩তম গ্রেডে ১১৮ শতাংশ, ১৪তম গ্রেডে ১৩০ শতাংশ, ১৫তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ, ১৬তম গ্রেডে ১৩৫ শতাংশ, ১৭তম গ্রেডে ১৩৮ শতাংশ, ১৮তম গ্রেডে ১৩৯ শতাংশ, ১৯তম গ্রেডে ১৪১ শতাংশ এবং ২০তম গ্রেডে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নতুন বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। এতে কম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি কিছুটা সমন্বয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায়
বর্ধিত বেতন দিতে অর্থ সংস্থানের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ অর্থ একসঙ্গে প্রয়োজন হবে না, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কারণে আগামী দুই বছরে পুরো অর্থের প্রয়োজন পড়বে না।
‘ফুলটা যখন ইমপ্লিমেন্টেড হবে তার। আর তার বাল্ক একটা অংশ তো আমরা এখন অলরেডি ব্যয় করছি।’
বেতন বাড়ানোর ফলে বাজার ও মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়টিও সরকার বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, ‘সবকিছুই অ্যাকাউন্টে নেওয়া হয়েছে। তা না হলে তো একসঙ্গেই টাকা দেওয়া হতো।’
বেতন বৃদ্ধির কারণে বাজারে যে প্রভাব পড়বে, সরকার কীভাবে তা মোকাবিলা করবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে নাসিমুল গনি বলেন, ‘আসেন, দেখা যাক কীভাবে হ্যান্ডেল করে গভর্নমেন্ট। দেখতে পাবেন।’








