রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি, মামলা রায় থেকে ফের যুক্তিতর্কে

সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা। ছবি : সংগৃহীত
সাভারে ধসে পড়া রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় মালিক সোহেল রানাসহ আটজনের মামলার রায়ের পর্যায় থেকে ফের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে পাঠানো হয়েছে।
১৩ বছর আগের এই মামলায় আজ মঙ্গলবার রায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বিএম তারিকুল কবীর রায় ঘোষণা না করে আবার যুক্তিতর্ক শুনানির আদেশ দেন। আগামী ৬ অক্টোবর এই শুনানি হবে।
দুদকের প্রসিকিউটর ইসতিয়াক আহমেদ সাংবাদিকদের জানালেন, কিছু বিষয় স্পষ্ট হওয়ার জন্য মামলাটি রায় থেকে ফের যুক্তিতর্ক শুনানিতে পাঠানো হয়েছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
এই মামলায় সোহেল রানা ছাড়া অন্য আসামি হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাভার পৌরসভার সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম ও লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।
আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এদিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম শুরু থেকে পলাতক রয়েছে। অপর আসামিরা জামিনে আছেন। তারা আদালতে হাজিরা দেন। মামলার বিচার চলাকালে রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা যান। তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। বাংলাদেশে ভবন ধসের সেই ঘটনা বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।
ঘটনার পরপরই ভবন নির্মাণে দুর্নীতির অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম।
ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে হওয়ায় ওই সময় সোহেল রানাকে বাদ দিয়েই তার বাবা-মাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। তদন্তে সোহেল রানাই ভবনের মূল দেখভালকারী ছিল প্রমাণিত হলে তাকে আসামির তালিকায় যুক্ত করা হয় অভিযোগপত্রে।
মামলার নথি থেকে জানা যাচ্ছে, অভিযোগপত্র জমা থেকে শুরু করে তৃতীয় দফায় ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ভবন মালিক সোহেল রানা ও বাবা-মাসহ ১৮ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রানা প্লাজা নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নকশা অনুমোদন করে সাভার পৌরসভা। ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ছয়তলা ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়। এরপর আগের অনুমোদনের নথির তথ্য গোপন করে নতুন নথি খুলে পৌর কর্তৃপক্ষ ১০ তলা ভবনের নকশা অনুমোদন করে। তাছাড়া রানা প্লাজা নির্মাণের আগে শপিং কমপ্লেক্স করার কথা বলা হলেও পরে সেখানে পাঁচটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের অনুমতি দেয় সাভার পৌরসভা।
২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। আদালতে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।
ভবন ধসের এ ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা চলছে।








