সুপ্রিম কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি তুললেন বার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন
প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার ঘটনায় আলোচনায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবার সুপ্রিম কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি তুলেছেন।
গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগের ঘটনা এবং বুধবার সংসদে তা নিয়ে আলোচনার পর আজ বৃহস্পতিবার তিনি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে এই দাবি তোলেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘সবাই উদ্বিগ্ন বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে। মামলার তদ্বিরে দুর্নীতি, লিস্টে আনতে দুর্নীতি, শুনানিতে দুর্নীতি, কিছু কিছু জুডিশিয়াল অফিসারের দুর্নীতি এবং সুপ্রিম কোর্টে সব জায়গায়। হাইকোর্টেও লিস্টে আনতে দুর্নীতি- এসব আইনজীবীদের বক্তব্য।’
প্রধান বিচারপতির কাছে দুর্নীতি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগের সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অন্যান্য জায়গায় দুর্নীতি থাকতে পারে, দুর্নীতির বিচার কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে হয়। আর সুপ্রিম কোর্টেই যদি বিচারপ্রার্থীরা মামলা করার সময় তদ্বির করতে হয়, সব জায়গায় টাকা দিতে হয়- এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার।’
নিম্ন আদালতকেও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব দাগি কর্মকর্তারা এখনও রয়ে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তথ্য লুকিয়ে একাধিক রিট আবেদন করায় গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগ এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এরপর মাহবুব উদ্দিন আরেক মামলার শুনানিতে এনিয়ে বাদানুবাদে জড়ান প্রধান বিচারপতির সঙ্গে। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি এজলাস ছেড়ে উঠে যান।
বুধবার সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় ওঠে। সরকারি দলের সংসদ সদস্য হিসেবে মাহবুব উদ্দিন তখন সংসদেও ছিলেন। বিরোধী দলের এক সদস্য দাবি করেন, এই গটনার মধ্যদিয়ে বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করার আলামত দেখছেন তিনি।
সংসদে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার পর আজ সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সামনে হাজির হয়ে বিচার বিভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি তুললেন মাহবুব উদ্দিন।
বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া অনেক বিচারপতির আচরণ ‘রাজনৈতিক’ ছিল দাবি করে তাদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।
মাহবুব উদ্দিন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে গত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগের সময় অনেক বিচারপতির আচরণ ছিল রাজনৈতিক। আজ আড়াই বছর হয়ে গেছে, প্রধান বিচারপতি আসছেন, এর আগে একজন প্রধান বিচারপতিও চলে গেছেন। কিন্তু তারা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বহাল তবিয়তে আছে। আমি দাবি করি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তাদের পাঠানো হোক।’
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের নানা সমস্যা সমাধানের দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে, যেটা সর্বোচ্চ আদালত, এখানে বস্তি থাকবে কেন? আইনজীবীরা … বসার জায়গা নাই, হাঁটার জায়গা নাই। আমাদের কোনও বিল্ডিং নাই।
‘আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রিমিসেস থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে এবং আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপাতত টেম্পোরারি শেড পর্যায়ের হলেও ব্যবস্থা করে দিতে হবে।’
এক মাসের মধ্যে এই ব্যবস্থাগুলো না নিলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে, বলেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি।
মামলা নিষ্পত্তির গতি বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি করেন মাহবুব উদ্দিন। প্রয়োজন হলে বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও তিনি দেন।
প্রধান বিচারপতি এজলাস ছাড়ার ঘটনার পর মাহবুব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি আইনজীবীদের স্বার্থে কথা বলেছিলেন। তবে তার সেই বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ বক্তব্যে আটর্নি জেনারেলকে নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মাহবুব উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে আইনজীবীদের কথা তুলে ধরা তার দায়িত্ব, এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ নেই।






