১৮৩ কোটির প্রকল্পে ধীরগতি, বিদ্যুতে আটকা লাখো মানুষ

মনপুরা দ্বীপ
মনপুরা দ্বীপে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। এ কারণে সেখানে গড়ে ওঠেনি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান, পর্যটন কেন্দ্র কিংবা হোটেল মোটেল। এমতাবস্থায় সম্ভাবনাময় দ্বীপটিকে একটি অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করতে ‘মনপুরা দ্বীপাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সরকার।
২০২৩ সালের মার্চে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে ১৩০ কোটি ২২ লাখ টাকার এ প্রকল্পে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৪৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এ নিয়ে গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন উপজেলা মনপুরার ৪ বিচ্ছিন্ন দ্বীপে (মনপুরা দ্বীপ, কলাতলী চর, কাজীর চর এবং ঢাল চর) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিতরণ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও সম্প্রসারণের জন্য ওজোপাডিকো (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি.) হাতে নেয় প্রকল্পটি। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থে এটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় ১৮৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
আমরা এমন সিস্টেম চালু করব যার ফলে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে উপায় থাকবে না। এক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে সংশ্লিষ্টদের।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে মনপুরায় প্রায় এক লাখ ও পার্শ্ববর্তী চরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। সার্বিক বিবেচনায়, নির্ধারিত ট্যারিফে মনপুরার জনগণকে চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার জন্য আইপিপি মডেলে তিন মেগাওয়াট (এসি) সোলার-ব্যাটারি-ডিজেল হাইব্রিড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যেগ আছে। এ জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মনপুরা সোলার পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের চুক্তি হয়। ওই প্ল্যান্ট ছাড়াও জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নেওয়া হয়েছে প্রকল্পটি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি আগামীর সময়কে বলেছেন, শুধু এটিই নয়, যেকোনো প্রকল্পে ধীরগতি রোধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে যা হয়েছে এখনো তাই চলবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। আমরা এমন সিস্টেম চালু করব যার ফলে যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে উপায় থাকবে না। এক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে সংশ্লিষ্টদের।






