ব্রাজিল নিয়ে মন্তব্য
সাইবার আক্রমণের শিকার জাপানি স্ট্রাইকার

ব্রাজিল ও নেইমারকে নিয়ে মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন জাপানি ফরোয়ার্ড কেন্তো শিওগাই। আজ সোমবার হিউস্টনে বিশ্বকাপের নকআউটে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল ও জাপান। কিন্তু এই মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরে তৈরি হয়েছে এক কুৎসিত পরিস্থিতি।
ঘটনার সূত্রপাত জাপানি দলের এক অনুশীলন সেশনের পর। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার শিওগাই ব্রাজিল ও নেইমারের বর্তমান ফর্ম নিয়ে বলেন, ‘সেটা তো অতীতের নেইমার ছিল, তাই না? আমার মনে হয় আমরা এখন বেশ ভালো করছি। ব্রাজিল আগে অনেক শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন কেমন? আমার মনে হয় ফ্রান্স কিংবা আর্জেন্টিনা এখন বেশি শক্তিশালী। ইদানীং ব্রাজিলকে নিয়ে তেমন কিছু শুনি না।’ জাপানি গণমাধ্যম ফুটবল চ্যানেল ও সকার ডাইজেস্টে প্রকাশিত এই বক্তব্যটি ব্রাজিলিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে ব্রাজিলের উগ্র সমর্থকেরা ঝাঁপিয়ে পড়েন শিওগাইয়ের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিওগাইয়ের সর্বশেষ পোস্টে ১৮ হাজারেরও বেশি মন্তব্য জমা পড়েছে, যার সিংহভাগই এশিয়ান ও জাপানিদের প্রতি চরম বর্ণবাদী ও জাতিগত বিদ্বেষমূলক। সেসব মন্তব্যে জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত কুৎসিতভাবে উপহাস করা হচ্ছে।
অথচ মূল সাক্ষাৎকারে শিওগাই ব্রাজিলকে কোনোভাবেই খাটো করেননি। তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন, ‘ব্রাজিল এখনো শক্তিশালী দল। আমরা যদি তাদের হারাতে পারি, তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস ও গতি বহুগুণ বেড়ে যাবে।’ এদিকে এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই নিয়ে ম্যাচের আগের দিন প্রশ্ন করা হয়েছিল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। তবে অভিজ্ঞ এই কোচ বিষয়টি পেশাদারিত্বের সঙ্গে এড়িয়ে যান, ‘আমরা এসব মাঠের বাইরের কথায় কান দিতে চাই না। আমাদের পুরো মনোযোগ ম্যাচ এবং প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর। আমরা কোনো মনস্তাত্ত্বিক খেলায় জড়াব না।’ ২০০৫ সালে জন্ম নেওয়া তরুণ স্ট্রাইকার কেন্তো শিওগাই বর্তমানে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলছেন। গতি ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য জাপানি ফুটবল মহলে তাকে বেশ সম্ভাবনাময় হিসেবে ধরা হয়। তবে বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াই শুরুর আগে একজন তরুণ ফুটবলারের এভাবে বর্ণবাদী সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়াটা ফুটবলকে আরও একবার কলঙ্কিত করল।






