পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় ১৫ চ্যালেঞ্জ, আসছে সমাধানের রূপরেখা

লোগো
সরকারি তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার অভাবসহ ১৫টি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা। একই সঙ্গে সংকটে রয়েছে সরকারের একমাত্র পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস)।
এসব সংকট দূর করতে নতুন পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত পরিকল্পনায় (২০২৬-২০৩০) আলাদা একটি অধ্যায় যুক্ত করে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
চলতি মাসের শেষ দিকে বই আকারে এই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পনার খসড়া তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সেখানে সরকারের বিভিন্ন খাতভিত্তিক লক্ষ্য ও তা বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হবে।
জিইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনায় সরকারি পরিসংখ্যানকে কেবল প্রশাসনিক কাজ না ভেবে একটি কৌশলগত জনহিতকর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো একটি সমন্বিত জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক তথ্য নিশ্চিত করা।
এ জন্য শক্তিশালী আইনি কর্তৃপক্ষ, নিয়মিত অর্থায়ন, আধুনিক ডেটা পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে কাজ করছে সরকার।
পরিকল্পনায় দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার যেসব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো হলো- আইনগত আদেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃেত্ব অস্পষ্টতা, পেশাগত স্বাধীনতা ও শাসনব্যবস্থা সমস্যা, মূল জরিপ কর্যক্রমে অর্থায়ন সংকট, প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচী ও সময়ানুবর্তিতা, গুণমান নিশ্চিতকরণ সিস্টেম উন্নয়ন এবং সমন্বয় সাধন করা।
এছাড়া জিডিপি ও পরিসংখ্যানের জন্য গুণগত প্রশাসনিক তথ্য প্রাপ্তি, সমন্বিত রেজিস্টার ও ফ্রেম, ডিজিটাল ডেটা অবকাঠামোর অভাব এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ও পরিধি বৃদ্ধি।
আরও আছে বিভাজিত স্থানীয় পরিসংখ্যান, বিনামূল্যে উন্মুক্ত মাইক্রোডেটা অ্যাক্সেস ও ব্যবহারকারীর পরিষেবা, মানব সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মরতদের কর্মজীবনে ধারাবাহিক উন্নতি না থাকা, প্রশিক্ষণ ও পরিসংখ্যানগত জ্ঞানের স্বল্পতা এবং যোগাযোগ ও বিশ্বস্ততা স্থাপনে ঘাটতি।
বিবিএসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশের বর্তমান সরকারি পরিসংখ্যান ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক, কারিগরি ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ জরিপ নিয়মিত অর্থায়নের অভাবে আটকে থাকে, যার ফলে সঠিক সময়ে তথ্য প্রকাশ করা যায় না।
তাছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও পরিবেশের মতো জরুরি খাতে এখনো তথ্যের বড় ঘাটতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিবিএসকে পুনর্গঠন করা এবং টাস্কফোর্সের সংস্কার সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিবিএসকে একটি আধুনিক, স্বাধীন এবং আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য পূরণে পরিসংখ্যানের মান উন্নত করার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনআস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।




