বদলি খেলোয়াড়দের ৫০ গোলের কীর্তি

বদলি নেমে গোল করে স্পেনকে জিতিয়েছেন মেরিনো। ছবি: সংগৃহীত
বদলি খেলোয়াড়রা বদলে দিচ্ছেন ম্যাচের ভাগ্য। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকেও বিদায় করলেন স্পেনের বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনো। ইনজুরি টাইমে করা তার গোলেই ১-০ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়েছে স্পেন।
এই গোলে হয়েছে অনন্য কীর্তিও। এটা এবারের বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়দের ৫০তম গোল, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। ২০১৪ বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়দের ৩২ গোল ছিল এতদিনের রেকর্ড। সেই কীর্তি পেছনে পড়েছে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়রা করেছিলেন ৩০ গোল।
এবারের বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড়দের এত বেশি গোলের কারণ আসলে তিনটি। এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ হওয়ায় বেড়েছে ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবে গোলও বেড়েছে। আর করোনার পর ৩ জনের বদলে ফিফা অনুমোদন দিয়েছে ৫ বদলি খেলোয়াড়ের। এটাও বদলি খেলোয়াড়দের বেশি গোল করার কারণ। সবশেষ কারণটা হচ্ছে ২৩ জনের বদলে ২৬ জনের স্কোয়াড গড়ার সুযোগ। বেঞ্চে বাড়তি খেলোয়াড় থাকায় কোচরা সময়মত কাজে লাগাচ্ছেন তাদের।
এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব শেষে বদলি নেমে সর্বোচ্চ ৪টি গোল করেছেন সেনেগালের খেলোয়াড়রা। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বদলি নেমে জার্মানির ডেনিজ উন্দাভ করেছিলেন আবার জোড়া গোল। বদলি নেমে অ্যাসিস্টও আছে তার।
পর্তুগালের বিপক্ষে বদলি নেমে গোল করা মেরিনো এর আগেও গড়ে দিয়েছেন ম্যাচের ভাগ্য। আর্সেনালের এই খেলোয়াড় গত ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে জার্মানির বিপক্ষে ১১৯ মিনিটে গোল করে জিতিয়েছিলেন স্পেনকে।
মেরিনো আসলে স্ট্রাইকার নন, স্পেনে মিডিয়ার কাছে খুব বেশি আলোচিতও নন। তবে ঘড়ির কাঁটা যখন ফুরিয়ে আসতে থাকে, ডি-বক্সে বল পাঠানোর জন্য কাউকে প্রয়োজন হয়, ঠিক তখনই ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন।
এর ব্যাখ্যা কেবল ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয় বরং মেরিনো ঠিক কী ধরনের খেলোয়াড়, সেখানেই লুকিয়ে উত্তর। লম্বা, শক্তিশালী, বাঁ-পায়ের মেরিনো দ্রুত বক্সে পৌঁছাতে পারেন। ফাঁকা জায়গাগুলোতে আক্রমণ করতে পারেন। আর্সেনালে ২০২৪/২৫ মৌসুমের কিছুটা সময় এই স্প্যানিয়ার্ডকে স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলানো হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাই কাজে এসেছে তার।




