জাকির জাফরানের কবিতা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অনন্ত বেহালা
জাগো মন, জাগো মর্ম, বিস্তারিত জ্বালা,
শরীর শরীর নয়, অনন্ত বেহালা।
জাগো মায়া, জাগো দূর বনের সবুজ—
তোমার চোখের কাছে পরাজিত রোজ।
শোনো মোহ, বাউল বিচ্ছেদে বাজা বাঁশী,
বাঁশীর ভিতরে বায়ু হয়ে আমি বেঁচে আছি।
শোনো পাখি, শোনো চেতনার জুঁইমালা
তোমার হাসিতে বাজে অনন্ত বেহালা।
সমুদ্রের দিকে
একটি পিঁপড়া
কামড়েছে পায়ে আজ
তোমাকে তা কীভাবে জানাব?
মানুষ যে এক নীরব কামিনী গাছ
তোমাকে তা কীভাবে মানাব?
হৃদয় আমাকে টানে সমুদ্রের দিকে
শরীর চাইছে সোমজল,
এ দুয়ের মাঝামাঝি তুমি বিস্তারিত
মায়াদ্বীপ থেকে হিমাচল।
সূর্যাস্তে চলেছে যে শামুক দ্রুত পায়ে
কী তার ব্যস্ততা গোধূলিতে!
তোমাকে লিখব সেই গান, থাকো যদি
কুশলী কচ্ছপ হয়ে শীতে।
পিঁপড়ার কামড়ে ভেঙেছে ঘুম, তুমি
সমুদ্রের সঙ্গে গেছ মিশে,
ছায়াপথে জেগে আছে কেউ নীল হয়ে
করবী ফুলের মায়াবিষে।
জন্ম অকারণ
এই জন্ম যদি অকারণ
ব্যথা দিও গভীর নির্জনে,
সমস্ত দৃশ্যের শেষে এসে
দেখা দিও গাছ পোড়া বনে।
পোড়ে মন পোড়ে মায়াবন
এই জন্ম যদি অকারণ
তবে কেন সজল নয়নে,
ওড়ে চুল, আর কিছু ভুল,
ঘুমহীন মায়াবী মাশুল
জেগে থেকে দিয়েছি স্বপনে।
মর্মাহত
অতীতের ভাঙা মন জাগো, দিগ্বলয়
ছেয়ে গেছে বৃষ্টির চাদর,
আমার হৃদয় পেরুলেই পেয়ে যাবে
রাত-জাগা বঙ্গোপসাগর।
বাউলের আরাধনা ভেঙে বায়ু বয়
অশ্রু বয় দক্ষিণে যেভাবে,
এমনও কি মেঘ আছে তোমার আকাশে
যে শুধুই হৃদয় ভেজাবে!
আমার এ বুকে ময়ূরের কান্না শুধু
হৃদয় এমন এক ঘর,
বুকের ওপর হেঁটে গেলে পেয়ে যাবে
মর্মাহত বঙ্গোপসাগর।
কাওরান বাজারের পথে
যেতে যেতে শুনি লুপ্তপ্রায় গান এক
হাহাকারে গাইছে ধরণি,
ঝিনুকের অতৃপ্ত হৃদয় থেকে যেন
জন্ম নিল বিজয় সরণি।
সকালের কচি রোদ বসেছে আঙুলে
আঙুল কাঁপছে মনে হলো,
রোদ তুমি বড় একা মানুষের ভিড়ে
আমার সাথেই তবে চলো।
কাওরান বাজারের পথে পথে ডাকে
ঘোরগ্রস্ত একাকী চড়ুই,
আর কিছু কুকুরের ঘুম ভাঙা গানে
বেদনার সীমা আমি ছুঁই।
শহরের বাঁকে বাঁকে এত ঘুরপথে
অন্তহীন দ্বিধা কেন বলো,
মাছ আমি বড় একা বাজারের ভিড়ে
আমাকেও সাথে নিয়ে চলো।




