
তারিখ
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সময়
01:00:00
ভেন্যু
লস অ্যাঞ্জেলেস
স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে আছে এক ম্যাজিক-ম্যান। চাপের মধ্যে তিনি মাঠে নামবেন এবং স্পেনকে এনে দেবেন জয়। সেই সুপার-সাব মিকেল মেরিনো আবারও দেখালেন তার জাদু। এবার শেষ মুহূর্তে গোল করে ২০১০ সালের পর স্পেনকে তুলে নিলেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।
৮৮ মিনিটে মেরিনোর গোলেই বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে স্পেন। ১৪ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে লা রোহারা লড়বে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফ্রান্সের বিপক্ষে। বলার অপেক্ষা রাখে না ফাইনালে ওঠার এই লড়াইটা হতে যাচ্ছে বারুদে এক ম্যাচ।
সুপার-সাব মিকেল মেরিনো। পর্তুগাল ম্যাচে বদলি হয়ে নেমে ইনজুরি টাইমে গোল করেছিলেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও শেষ মুহূর্তে গোল করলেন এই মিডফিল্ডার। ৮৮ মিনিটে তার গোলেই ম্যাচে দ্বিতীয়বার এগিয়ে যায় স্পেন।
এখানে বেলজিয়ামের বদলি গোলকিপার সেনে ল্যামেন্সও দায়ী। দূরপাল্লার শটে খুব একটা বিপদের আভাস ছিল না। কিন্তু পাউ কুবারসির সেই শট সামলাতে গিয়ে বড় ভুল করে বসেন ল্যামেন্স। বলটি তার হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে পড়ে মিকেল মেরিনোর সামনে। এমন সুযোগ কি আর হাতছাড়া করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার! সহজ টোকায় বল জড়িয়ে দেন জালে।
বেলজিয়াম দলে বড় ধাক্কা। ৭২ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন থিবো কোর্তোয়া। দ্বিতীয়ার্ধের হাইড্রেশন ব্রেকের আগে অস্বস্তি নিয়ে মাঠে শুয়ে পড়েন রিয়াল মাদ্রিদের ‘নাম্বার ওয়ান’। পা হাত দিয়ে ধরে থাকতে দেখা যায় তাকে। যদিও হাইড্রেশন ব্রেকের পর মাঠে ফিরে আসেন। মনে হয়েছিল, কোনো সমস্যা নেই তার।
কিন্তু কয়েক মিনিট যেতেই মাঠ ছাড়লেন কোর্তোয়া। মাঠ ছাড়ার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখ মুছতে মুছতে যান ডাগ আউটে। বিশ্বকাপ মঞ্চে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে গোলবারের নিচে থাকতে না পারার দুঃখ কতটা, সেটা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
৬৫০ মিনিট! বিশ্বকাপ মঞ্চে এত লম্বা সময় ধরে স্পেনের জালে বল জড়াতে পারেনি কোনো দল। ২০২২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল- টানা ছয় ম্যাচ ক্লিনশিট রেখে ইতিহাস গড়েছিলেন উনাই সিমন। তিনি ভেঙে দিয়েছিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির কিংবদন্তি গোলকিপার ওয়ালতার জেঙ্গার ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও শুরুটা ছিল সেই চেনা ছন্দে। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। কিন্তু ১১ মিনিট পরই শার্লে ডি কেটেলারের দুর্দান্ত হেডে শেষ হয়ে যায় সেই অবিশ্বাস্য অধ্যায়।
ডি কেটেলারের গোলেই থেমে গেছে উনাই সিমনের ৬৫০ মিনিটের অজেয় যাত্রা। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বল জড়ায় স্পেনের জালে।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। বেলজিয়ামের খেলায় ফিরতে লাগে ১১ মিনিট। ৪১ মিনিটে চমৎকার হেডে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরায় শার্লে ডি কেটেলারে।
প্রথমার্ধের এই একটি শটই গোলমুখে নিয়েছে রেড ডেভিলস, তাতেই পেয়েছে গোলের দেখা।
সমতায় ফিরতে ১১ মিনিট লাগল বেলজিয়ামের। ৪১ মিনিটে চমৎকার এক হেডে রেড ডেভিলদের খেলায় ফেরালেন শার্লে ডি কেটেলারে। চলতি বিশ্বকাপে এটাই স্পেনের প্রথম গোল হজম।
সহজাত সেন্টার ফরোয়ার্ড নন ডি কেটেলারে। তবু হেডে গোল করার অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়ে টানা দুই ম্যাচে করলেন তৃতীয় গোল। ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানের নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত দৌড়ে ডিফেন্ডারের সামনে চলে যান ডি কেটেলারে। এরপর দুর্দান্ত হেডে বল জড়িয়ে দেন জালে।
স্পেনের অটুট রক্ষণ ভেঙে বেলজিয়ামকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন ডি কেটেলারে। আর তাতেই কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই পেয়েছে নতুন উত্তাপ।
অবশেষে খুলল গোলের দরজা। স্পেনকে এগিয়ে নিলেন ফাবিয়ান রুইস। পেদ্রির জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া এই মিডফিল্ডার ৩০ মিনিটে পেয়েছেন গোলের দেখা।
দানি ওলমোর শট প্রতিহত হয়েছিল বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কোর্তোয়ার হাতে। ফিরতি বলে রুইস শট করলে বেলজিয়ামের এক খেলোয়াড়ের পা স্পর্শ করে জড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে বেলজিয়ামের একাদশে এসেছে পরিবর্তন। শুরুর একাদশে থাকা ইউরি টিলেমান্সের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন হান্স ফানাকান।
প্রথমে টিলেমান্সকে রেখেই একাদশ ঘোষণা করা হলেও তিনি ওয়ার্ম-আপেও অংশ নেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফিটনেসজনিত সমস্যার কারণেই শেষ মুহূর্তে তাকে একাদশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেদ্রিকে বেঞ্চে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের একাদশ চূড়ান্ত করেছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ওদিকে বেলজিয়াম কোচ ফিরিয়েছেন কেভিন ডি ব্রুইনা ও জেরেমি দোকুকে। রোমেলু লুকাকু রয়েছেন একাদশের বাইরে।
স্পেন একাদশ: উনাই সিমন; পেদ্রো পোরো, আইমেরিক লাপোর্তে, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া; ফাবিয়ান রুইস, আলেক্স বায়েনা, রোদ্রি ; দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওয়ারসাবাল।
বেলজিয়াম একাদশ: থিবো কোর্তোয়া ; ব্র্যান্ডন মেখেলে, মাক্সিম ডি কাইপার, তিমোতি কাস্তান, নাথান এনগোয় ; কেভিন ডি ব্রুইনা, হান্স ভানাকেন, নিকোলাস রাসকিন ; লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড, জেরেমি দোকু, শার্লে ডি কেটেলারে।