এডিনবরাতে আইসিসির সভায় যোগ দিলেন তামিম

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনের শুরু থেকেই গুঞ্জন, আইসিসি সভায় ডাক পাননি তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানালে আইসিসি কী তবে বিসিবি নির্বাচন মেনে নেয়নি? আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চিঠি কী তবে আমলে নিয়েছে তারা?
সব প্রশ্নের উত্তর মেলে দিনের শেষে। ৯ জুলাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দিয়েছেন তামিম ইকবাল। স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরাতে এই সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। বিসিবির একজন পরিচালক আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল ওপেনার তামিম ইকবাল চলতি বছর বিসিবির সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি অ্যাড-হক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আইসিসির এ ধরনের সভায় ক্রিকেটের বৈশ্বিক নীতিমালা, ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচি, আর্থিক বণ্টন, সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন কর্মসূচি, নারী ক্রিকেট, সহযোগী দেশগুলোর অগ্রগতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, তামিম ইকবালের উপস্থিতি শুধু আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার একটি সুযোগ।
এডিনবোরোর এই বৈঠক থেকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে—
• আইসিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের মতামত আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরার সুযোগ।
• ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানসহ অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা।
• ক্রিকেট উন্নয়ন, অবকাঠামো, কোচিং, প্রযুক্তি ও নারী ক্রিকেটে আইসিসির বিভিন্ন সহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্পে আরও বেশি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ।
• ভবিষ্যতে আইসিসির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট কিংবা বাছাইপর্ব আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়া।
• আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনে বাংলাদেশের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি।
নতুন ভূমিকায় তামিমের বড় পরীক্ষা
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাঠে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছেন তামিম। তবে ক্রিকেট প্রশাসনে এটি তাঁর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। ফলে আইসিসির সভায় তাঁর অংশগ্রহণ নতুন নেতৃত্বের সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আইসিসির এই বৈঠকে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে পড়বে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সিরিজ আয়োজন, উন্নয়ন প্রকল্প, আর্থিক সহায়তা এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট প্রশাসনে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, এডিনবোরোতে আইসিসির প্রথম সভায় তামিম ইকবালের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




