নারীর পরিচয় তার ব্যক্তিত্বে

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান
পশ্চিমবঙ্গে আজ মুক্তি পাচ্ছে জয়া আহসান অভিনীত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অর্ধাঙ্গিনী’র সিক্যুয়েল। তিনি কলকাতা থেকে জনি হকের সঙ্গে কথা বলেছেন
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তি পাচ্ছে আজ। এতে মেঘনা চরিত্রে আবারও ফিরে আসতে নিজেকে নতুনভাবে প্রস্তুত করতে হয়েছে? আগেরবারের তুলনায় চরিত্রটি কতটা বদলেছে?
সত্যি বলতে, মেঘনা চরিত্রটি একভাবে আমার ভেতরেই তৈরি ছিল। তাই তিন বছর পর এসে চরিত্রটিকে নতুনভাবে তৈরি করতে হয়নি; বরং একটু ঝালিয়ে নিতে হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে মেঘনার পারিপার্শ্বিকতা অনেক বদলেছে। সে এখন পরিবারের একটি অংশ, পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। তার জীবনে নতুন কিছু মানুষের আগমন ঘটেছে, যেমন বাস্তবজীবনেও সময়ের সঙ্গে নতুন মানুষ আসে। তার সন্তান বড় হয়েছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে, এবার মেঘনা চরিত্রের ডাইমেনশন ‘অর্ধাঙ্গিনী’র তুলনায় আরও বড় এবং আরও গভীর।
‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছিল। সিক্যুয়েলে কাজ করার সময় সেই প্রত্যাশার চাপ কতটা অনুভব করেছেন?
না, আমার কোনো চাপ কাজ করেনি। কারণ পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীর লেখনীর ওপর আমার ভীষণ আস্থা আছে। তার গল্প বলার ধরন আমাকে সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী করে। তাই চাপ নয়; বরং খুব আনন্দ নিয়েই কাজ করেছি। আনন্দ বলতে শুটিং ফ্লোরে খুব হাসি-আনন্দ হয়েছে, এমন নয়।
এ সিনেমার এমন কোনো দৃশ্য বা সংলাপ আছে, যা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে নাড়া দিয়েছে?
আমার কাছে পুরো ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ধারণাটাই সবচেয়ে বেশি নাড়া দেওয়ার মতো। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ শব্দটা এখানে খুব সচেতনভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক সময় ভাবী, কেন একজন নারীকে ‘বেটার হাফ’ বা ‘অন্য অর্ধেক’ বলা হবে? এটা ঠিক না। একজন নারীর পূর্ণ পরিচয় তো তার ব্যক্তিত্বে। তিনি প্রথমত একজন মানুষ, তারপর নারী। আমার কাছে এ ভাবনাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সিনেমাটিও সে বিষয়কেই গভীরভাবে তুলে ধরে।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র কাজ করতে গিয়ে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সম্পর্কে নতুন কী আবিষ্কার করলেন?
নিজেকে আবিষ্কার করা খুব কঠিন একটা বিষয়; বরং প্রতিটি নতুন কাজ করতে গেলেই আমার মনে হয়, এখনো কিছুই পারি না। এখনো অনেক কিছু শেখার বাকি। এই অনুভূতি প্রতিটি নতুন কাজের সময়ই ফিরে আসে এবং সেটাই আমাকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ কি আগের সিনেমার ধারাবাহিকতা, নাকি এটি আলাদা একটি চলচ্চিত্র হিসেবেও দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন?
‘অর্ধাঙ্গিনী’ একটি মৌলিক সিনেমা ছিল। সত্যি বলতে, শুরুতে এর সিক্যুয়েল করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। দর্শকের ভালোবাসা এবং প্রযোজকদের আগ্রহের জন্যই ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ হয়েছে। তবে যারা আগের সিনেমাটি দেখেননি, তাদেরও এই চলচ্চিত্র বুঝতে কোনো অসুবিধা হবে না। এটি স্বতন্ত্র একটি চলচ্চিত্র হিসেবেও পুরোপুরি উপভোগ করা যাবে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাই। নির্দিষ্ট করে কোনো ঘটনার কথা বলবেন?
সবাই জানত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। তাই খুব মজার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রচারের সময় দারুণ সময় কাটছে। কলকাতায় এলেই অসাধারণ আতিথেয়তা পাই। এবার আমরা আসার পর ইলিশ উৎসব হলো। পুরো টিম একসঙ্গে বসে আড্ডা দিয়েছি, খেয়েছি, নানান ধরনের ইলিশের পদ রান্না করা হয়েছিল। আমি এসেছি বলেই এমন আয়োজন করা হয়েছিল, এটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।
আপনার মতে, এই সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি কী— গল্প, অভিনয়, নাকি কৌশিক গাঙ্গুলীর নির্মাণ?
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র অনেক শক্তিশালী দিক আছে। সবার আগে বলব কৌশিক গাঙ্গুলীর লেখনী। এরপর রয়েছে নারীশক্তিকে যেভাবে গল্পের ভেতরে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর তার নির্মাণশৈলী তো আছেই। মানুষের সম্পর্ক, আবেগ এবং জীবনের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো কৌশিক গাঙ্গুলী যেভাবে বোঝেন, তা সত্যিই অসাধারণ। আমার মনে হয়, সম্পর্কের গল্প তিনি যেভাবে বলতে পারেন, খুব কম নির্মাতাই সেভাবে পারেন। আর একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যদি এমন শক্তিশালী সংলাপ ও ভালো লেখা হাতে পান, তাহলে অভিনয়ও অনেক স্বাভাবিকভাবেই ভালো হয়ে যায়।
কৌশিক সেন ও চূর্ণী গাঙ্গুলীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে কতটা ভিন্ন ছিল?
আমাদের মধ্যে আগেই একটি সুন্দর বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। এবারও সেই আন্তরিকতা নিয়েই কাজ করেছি। যেহেতু চরিত্রগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই সবার জানা ছিল, তাই কাজের সময় এক ধরনের স্বাচ্ছন্দ্য ছিল। পুরো টিম খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছে।
‘কড়ক সিং’-এর পর আবারও হিন্দি সিনেমায় দর্শক আপনাকে দেখতে আগ্রহী...
হিন্দি সিনেমার বিষয়ে এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলার মতো অবস্থা নেই। বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে, নতুন প্রস্তাবও আসছে; কিন্তু এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। তাই এখনই নির্দিষ্ট কোনো খবর দিতে পারছি না।
বাংলাদেশের নতুন কোনো সিনেমা কিংবা ওটিটিতে কাজ করছেন?
বাংলাদেশের একটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। ওটিটির কোনো কাজ নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে না। সবকিছু নিশ্চিত হলে অবশ্যই জানাব।




