প্রবাসী বাকারের টাকায় শিক্ষার প্রসার

ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী ড. শামসুল করিম বাকার
ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী ড. শামসুল করিম বাকার পরিবার নিয়ে বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রবাসে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটলেও তার মন পড়ে থাকে শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত জন্মগ্রামে। এলাকার দরিদ্র ও অবহেলিত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা তাড়িত করে তাকে।
২০০২ সালে ড. বাকার নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ডক্টর শামসুল করিম বাকার কলেজ। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর টানা ১৬ বছর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের বিনা-বেতনে লেখাপড়ার ব্যয় বহন করেন তিনি। ২০১৯ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হলে এখনো তার অর্থায়নে বিনা খরচে লেখাপড়া করছেন শিক্ষার্থীরা।
শুধু তার জন্মস্থান খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠার মধ্যেই ড. বাকারের অবদান সীমাবদ্ধ নয়; উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাবা-মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন মজিদুল ইসলাম-রওশন আরা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও তিনতলা বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি মসজিদ। মেয়ের নামে করেছেন ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নির্মাণ করেছেন ডক্টর এস কে বাকার টেকনিক্যাল স্কুল, লিটল ফ্লাওয়ার্স কিন্ডার গার্টেন ও রূপরামপুরে ড. এসকে বাকার ললিত কলা একাডেমি। তার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন ও বিজ্ঞান ভবন এবং থুকড়া আরজিজিটি মিলনী বালিকা বিদ্যালয়ের অডিটরিয়াম ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের লাইব্রেরি।
ড. শামসুল করিম বাকার কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম। তিনি জানিয়েছেন, কলেজটি ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হওয়ার পরও খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও বইসহ যাবতীয় খরচ বহন করছেন ড. বাকার। তার অর্থায়নে এখানে বিনা খরচে লেখাপড়া করছেন ৩৯৬ শিক্ষার্থী।
ফারাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর ভাষ্য, ২০২৩ সালে ড. বাকার বিদ্যালয়ের জন্য তিন একর জমি দান করেন। সেখানে তিনতলা বিশিষ্ট ভবন করে দিয়েছেন। এই বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন এবং শিক্ষার্থীদের সব খরচ তিনিই বহন করছেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পোশাক, সহায়ক বই ও দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সাইকেলও দেন তিনি। ড. বাকার ২০০২ সালে তার জমিদার বাড়ির একটি অংশে গড়ে তোলেন লিটল ফ্লাওয়ার্স কিন্ডার গার্টেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সরদার আরজান আলী জানিয়েছেন, এখানে ২৭২ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ও ১৩ জন শিক্ষকের বেতন বাবদ প্রতিমাসে ২ লাখ টাকা ব্যয় করেন ড. বাকার।
ডুমুরিয়ার রঘুনাথপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লুৎফুন্নেছা খাতুন বলেছেন, ড. বাকার বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়নে বিপুল টাকা খরচ করেছেন। দুটি তিনতলা ভবনসহ মিলনায়তন নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে উপহার দিয়েছেন অনেক আসবাব ও উপকরণ।
সংগীত প্রসারে উপজেলার রূপরামপুরে ড. এসকে বাকার ললিত কলা একাডেমি গড়ে তুলেছেন। একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার মণ্ডল শুভ জানালেন, প্রতিষ্ঠানটির একতলা ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন ড. বাকার। সব ধরনের বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থা করেছেন সেখানে। নিয়োগ দিয়েছেন দুজন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী। এখানে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত নৃত্য ও সংগীত শিখছেন বিনা খরচে।
ধামালিয়া গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষক শুভংকর মজুমদারের ভাষ্য, ড. বাকার এলাকার ছয়জন মানসিক প্রতিবন্ধী ও বেশ কিছু অসহায় মানুষের চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও ভরপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। রোগী সহজে ও দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য এলাকার একটি ক্লিনিকে অ্যাম্বুলেন্স দান করেছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ড. বাকার গরু ও মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। সেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। খামার থেকে উপার্জিত টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেন তিনি।




