ট্রাম্পের হুমকির পরপরই ইরানে ফের বোমা হামলা

দ্বিতীয় দিনের মতো হামলা চালানো হয়েছে ইরানের বিভিন্ন স্থানে। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানের একাধিক স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। হামলার পর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ এবং সক্রিয় করা হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় শুরু হয়েছে হামলা। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত আগ্রাসনের জন্য দেশটিকে জবাবদিহির আওতায় আনাই এ অভিযানের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে তারা।
ইরানের সরকারি ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বন্দর আব্বাস, সিরিক, কোনারাক, চাবাহার ও বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। শুধু বন্দর আব্বাসেই অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার পরপরই সেখানে সক্রিয় করা হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, চাবাহারে বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি আবু মুসা দ্বীপ এবং সিরিক শহরের তাহরুই গ্রামের কাছেও পাওয়া গেছে বিস্ফোরণের খবর। তবে বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আজ রাতে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’
হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আগ্রাসী শত্রু এবং তাদের সহযোগীদের দেওয়া হবে কঠোর শাস্তি।’
এদিকে খাতাম আল-আম্বিয়া যৌথ সামরিক সদর দপ্তরও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, সর্বশেষ হামলার কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদের। এ হামলায় ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো জবাব’ দেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।





