ডোনাল্ড ট্রাম্প
আজ রাতেই ইরানে কঠোর হামলা চালাব

ডোনাল্ড ট্রাম্প- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’। তবে ওয়াশিংটন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের কর্মকর্তারা আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তিগুলো মানছেন না। তিনি জানান, আগের দিনের হামলার পর বুধবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালাতে পারে।
ট্রাম্প বললেন, ‘আমি শুধু একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি—আজ রাতেই আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে আঙ্কারায় সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন কার্যত শেষ। তার এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরবে কি না বা প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ দিতে নতুন করে আলোচনা হবে কি না—এসব বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এ লক্ষ্য কোনো চুক্তি ছাড়াই অর্জন করা হতে পারে।
তিনি বললেন, ‘চুক্তি হলে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু আদৌ কোনো চুক্তি হবে কি না আমি জানি না। চুক্তি ছাড়াই হয়তো আমরা বিষয়টি সমাধান করব। কারণ এভাবে করা সহজ। তারা মিথ্যা বলে, প্রতারণা করে।’
সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা।
নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অতিক্রম না করে মাঝপথ থেকেই ফিরে গেছে।




