পর্যটক এক্সপ্রেস
১১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মধ্যরাতে ট্রেনযাত্রা বাতিল, বিপাকে যাত্রীরা

পানির নিচে তলিয়ে গেছে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণে রেললাইন ২০ ইঞ্চি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটা থেকে আটকে থাকার পর, দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার চরম ভোগান্তি ও উৎকণ্ঠা শেষে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের রাতে পরিবার, নারী ও শিশুদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা আর রাত কাটানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ট্রেনের প্রায় এক হাজার যাত্রী।
রেলওয়ের সূত্র বলছে, ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের চট্টগ্রামের ষোলশহর-জানালীহাট সেকশন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এর মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটায় ট্রেনটি এই সেকশনে এসে আটকে পড়ে। একই সময় ফরেস্ট গেইট এলাকায় রেললাইনের ওপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়লে ট্রেনটি সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে।
বিকেল চারটায় গাছ সরিয়ে নেওয়ার পর সাড়ে চারটায় ট্রেনটিকে ষোলশহর স্টেশনে আনা হয়। সেখানে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত অপেক্ষার পর পৌনে নয়টার দিকে ট্রেনটিকে পুনরায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। অথচ সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটির দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছানোর কথা ছিল।
জানতে চাইলে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ বলেন, ‘রেললাইনের ওপর এখনো প্রায় ২০ ইঞ্চি পানি জমে আছে। পানি অন্তত ছয় ইঞ্চিতে না নামলে ট্রেনের ইঞ্জিন চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সন্ধ্যার দিকে পানি কিছুটা কমলেও রাতে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় পানি আবার বাড়তে শুরু করে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যাত্রীদের সুরক্ষায় মধ্যরাত ১১টার দিকে আমরা ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি।’
তবে রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ নিয়েছে ট্রেনের যাত্রীদের। পরিবারের ২১ সদস্য নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। প্রায় আট ঘণ্টা ট্রেনে আটকে থাকার পর বিকল্প গাড়ির খোঁজে স্টেশনের বাইরে বের হওয়া মাহফুজুর বলেন, ‘এমন ভোগান্তিতে আগে কখনো পড়িনি। পরিবারের নারী ও শিশুদের নিয়ে এখন এই ঝড়ের রাতে কোথায় যাব? পুরো ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি হয়ে গেছে।’
বিকেল পাঁচটার দিকে লাগেজ নামিয়ে রেন্ট-এ-কার থেকে গাড়িও ভাড়া করে ফেলেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল আমিন। কিন্তু ট্রেনের স্টাফরা ‘ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হবে’ বলে তাদের আবারও ট্রেনে তুলে নেন। রাত নয়টা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না জানানোয় পরিবারের আট সদস্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি।
একই ট্রেনে মা-বাবার সঙ্গে জীবনের প্রথম কক্সবাজার সফরের আনন্দে ভাসছিল সদ্য এসএসসি পাস করা আলিশা আল ফাইজা। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে তার অসুস্থ বাবা বারবার অস্থির হয়ে উঠছিলেন, তাকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আলিশাকে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের তিন বন্ধু নাবিল, সুমন ও রাতুল দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা রীতিমতো ভেঙে পড়েন। ট্রেন থেকে নেমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাস ধরতে ছোটোছুটি করার সময় মোহাম্মদ নাবিল বলেন, ‘শুনলাম কক্সবাজারেও আবহাওয়া খারাপ। এমন আতঙ্ক নিয়ে ভ্রমণ করা যায় না। এখন কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই বাঁচি।’




