ঝড়ের পরে ফারিয়া

অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া
ব্যক্তিজীবনে হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পর ‘লোকে বলে’ গান দিয়ে ফিরেছেন অভিনেত্রী-গায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার অভিনয়ের সুখবরও আছে। ‘টুটুলের টাকা’ নামে নতুন একটি ওয়েব ফিল্মে নাম লিখিয়েছেন তিনি। এটি পরিচালনা করবেন ‘বরবাদ’ খ্যাত মেহেদী হাসান হৃদয়। আইস্ক্রিন প্রযোজিত এই ওয়েব ফিল্মে একজন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।
ওটিটিতে এর আগে কয়েকটি কাজ করেছেন নুসরাত ফারিয়া। সর্বশেষ তিন বছর আগে তার অভিনীত ‘পাতালঘর’ নামে একটি সিনেমা চরকিতে মুক্তি পায়। একই বছর ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিফাইভে মুক্তি পায় তার ‘ভয়’। পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ ২০২৩ সালেই রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘আবার প্রলয়’ সিরিজের ‘মেনোকা’ গানে নেচেছিলেন তিনি।
‘লোকে বলে’র গল্প
শুধু অভিনয় নয়, গান করাও উপভোগ করছেন নুসরাত ফারিয়া। তার গাওয়া সর্বশেষ গান ‘লোকে বলে’ এরই মধ্যে ইউটিউবে অর্ধকোটি ভিউ পেয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে এটি তৈরি হয়েছিল। তার কথায়, “নিজের প্লেলিস্টে রেখে নিজেই হেডফোনে এ গান শুনতাম। মন খারাপ হতো ভেবে যে, এটি কি কখনো আলোর মুখ দেখবে না? কাছের অনেকে বলত, ‘একে-তাকে দিয়ে প্রকাশ করে ফেলো।’ কিন্তু মন ভরত না। অবশেষে এসভিএফ একটি প্রকল্পের জন্য গানটি পছন্দ করল। এজন্য ফুয়াদ ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞতা। আর সঞ্জয় তো যা সুন্দর রিদম যোগ করল! বাবা যাদবের সঙ্গে এটি আমার ১৬ নম্বর কাজ।’
ফারিয়ার মতে, একটি গান প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাই তিনি অন্তত চার থেকে পাঁচ মাস ‘লোকে বলে’র প্রচারণা চালিয়ে যেতে চান। তার গাওয়া আগের গানগুলো হলো ‘পটাকা’, ‘আমি চাই থাকতে’ এবং ‘বুঝি না তো তাই’।
মুক্তির অপেক্ষায়
দুই বাংলাতেই নুসরাত ফারিয়া অভিনীত বেশ কিছু চলচ্চিত্র মুক্তির জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে ‘ফুটবল একাত্তর’, কলকাতায় ‘রকস্টার’ এবং নাম চূড়ান্ত না হওয়া কয়েকটি সিনেমা। ফারিয়া জানালেন, তার গাওয়া আরও দুটি গান তৈরি আছে।
ব্যক্তিজীবনের কঠিন সময়
গত বছর গ্রেপ্তারের ঘটনার পর কঠিন সময় পার করলেও ভেঙে পড়েননি নুসরাত ফারিয়া। তিনি বলেছেন, “যদি ট্রমা নিয়ে নিজেকে গৃহবন্দি করে রাখতাম, তাহলে অনুরাগীদের সঙ্গে শতভাগ অবিচার করা হতো। তারা আমাকে ভালোবাসেন। আমার জন্য কথা বলেছেন, লড়েছেন। এ ঘটনা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ট্রমা তো অবশ্যই কিছুটা আছে। কারণ আমিও মানুষ। বাবা-মা, পরিবার ও বন্ধুরা আমার পাশে ছিলেন। তাদের সহায়তায় এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে পেরেছি। বাসায় ফেরার ৪৮ ঘণ্টা পর মা আমাকে বলেছিলেন— ‘জিমে যাও, ওয়ার্কআউট করো, কাজে নামো। মুখ ভার করে বসে থাকা বা কান্না করা শক্তিশালী নারীদের মানায় না।’ তার কথাই সঠিক মনে হয়েছে।”
বিশ্বকাপে প্রিয় দল
ফুটবল বিশ্বকাপে নুসরাত ফারিয়ার প্রিয় দল কোনটি? এর উত্তর আপাতত দিতে নারাজ তিনি। কারণ শোনা যাক তার মুখেই, ‘একটি দলের নাম বললে অন্য দলগুলোর সমর্থকদের ট্রলের শিকার হই। এমনিতেই ফুটবল একটু কম বুঝি। কিন্তু এবার অনেক ম্যাচ দেখে কিছু ব্যাপার বুঝতে পারছি। বিশ্বকাপ শেষ হলে বলতে পারব কোন দল করি!’




