চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আটকে রাখা মাকে মুক্ত করলেন সাংবাদিকরা

চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করতে না পারায় এক নারীকে আটকে রাখে ল্যাম্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করতে না পারায় হাসপাতালে তালা আটকে বন্দী করে রাখা হয় সদ্য সন্তানহারা এক মাকে। এমন খবরে ছুটে যান দিনাজপুরের স্থানীয় সাংবাদিকরা। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অবশেষে মুক্তি মেলে সেই নারীর।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ল্যাম্ব হাসপাতালের ঘটনা এটি। ভুক্তভোগী সেই নারী স্থানীয় বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ছয় দিন বয়সী অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে গত বুধবার পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে ভর্তি হন সেই মা। নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে মারা যায় নবজাতকটি।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় সদ্য সন্তান হারা মাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে মৃত শিশুর মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের কাছে। এতে মায়ের অনুপস্থিতিতেই সন্ধ্যায় নবজাতকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি জানতে পারেন দৈনিক আগামীর সময়ের প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ এবং কালের কন্ঠের প্রতিনিধি মিনহাজুল ইসলাম। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করেন তারা। বিষয়টি দেখতে দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি আব্দুল জলিল সরকার, মোহনা টেলিভিশনের ইফতেখার হাবিব, দৈনিক ইত্তেফাকের বদরুদ্দোজা বুলুসহ প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক নেন হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি।
তবে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনাদের হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখনই বিষয়টির ব্যবস্থা নিচ্ছি আমি।’
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এক ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতি মাকে বিনা শর্তে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। এর পর ভুক্তভোগীকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘দরিদ্র রোগীদেরকে বিনা খরচে বা নির্দিষ্ট অংকের অর্থ ছাড় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। শোকাহত মাকে এভাবে হাসপাতালে আটক রাখা অমানবিক।’
সচেতন মহলের ভাষ্য, সংবাদ প্রকাশের আগেই একজন অসহায় প্রসূতি মায়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের দ্রুত উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ পার্বতীপুরে মানবিক দায়িত্ববোধের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।




