প্রিয় ৫ বই
- চর্যাপদ— অজ্ঞাত কবিগণ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন— শওকত আলী
- ফিরে এসো চাকা— বিনয় মজুমদার
- পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ— আহমদ ছফা
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল— শহীদুল জহির

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যে পথ প্রিয় ছিল একদিন, কোনো না কোনোভাবে দিনে একবার ঢু দিতাম ঠিকই, সেই পথে আর হাঁটাই হয় না, হাঁটি অন্য পথে। পথ বদলে যায়, মত বদলে যায়। প্রিয় বইও বদলে যায়, অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়ে। হ্যাঁ, এরপরও হয়তো কোনো পথরেখা একেবারে নিজের শরীরের পাঁজর ঘেঁষে চলে গেছে, সেটি মনে না থেকে উপায় কী!
কোনো কোনো বইও, পাঠের অনেক দিন বাদেও, সেই পাঠ মনে করা যায়। আবার এর সংখ্যাও মাত্র পাঁচ নয়। কী আর করা, সাহিত্য সম্পাদকের অনুরোধ এড়ানো কঠিন বড়ো।
চর্যাপদ
চর্যার পদগুলোকে একত্রে একটি বই ধরে নিয়েই বলছি। এ গুপ্তমন্ত্র বাংলা ভাষার আদি কবিতার সুবর্ণ-স্মারক। চর্যার পদ রচয়িতাগণই আজকের কবি, যার কাজ গুপ্তমন্ত্রে ভাবালাপ জারি রাখা। কাজেই, চর্যাপদ-গ্রন্থটি খুব প্রিয়ই থেকে গেল। কারণ, আদিতে ঈশ্বর ওংকার ছিলেন, ওংকার ধবনি ছিলেন, ধবনি বাক্য ছিলেন, বাক্য ঈশ্বর ছিলেন।
প্রদোষে প্রাকৃতজন
সেন রাজা ও সামন্তদের শাসন-শোষণে সাধারণ মানুষ বা প্রাকৃতজন, অন্ত্যজ ও বৌদ্ধরা জর্জরিত-নিষ্পেষিত, তুর্কি আক্রমণের আগমুহূর্তের সেই সময়টা নিয়ে এ দালিলিক উপন্যাসের লেখক শওকত আলী। বাংলা ভাষার এক সেরা কাজ। এ দেশের সেই সাধারণ মানুষের জীবনে তখন সন্ধ্যা, রাত নেমে আসছে। এরপর তো চেহারাটাই পাল্টে গেল বাংলার। নেটিভরা পরাজিত হলে দাস হয়ে যায়। অনেক বছর পরে দাস আর বুঝতেই পারে না, পরাজয়ই তাকে দাসত্বে আটকেছে।
ফিরে এসো চাকা
যেনবা পথের পাশে বন, বনের মধ্যে কতরকম ফুল এবং ফুলের মহিমা যতটা দেখার বা চোখের, তার চেয়ে বেশি নাকের। অর্থাৎ ঘ্রাণের। বিনয় মজুমদারের ফিরে এসো চাকা সেই গহনকুসুম কুঞ্জবনে ঘ্রাণ ছড়ানো কবিতা, প্রেম ও ব্যথা পরস্পর জড়াজড়ি করে আছে চাকা-সিরিজে, শিমুলপুরের বাঁশবাগানের সন্ধ্যায় হারিকেন হাতে হেঁটে যাওয়া বিনয়ের মধ্যে।
পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ
বাংলা ভাষায় এ জাতের লেখক ও লেখা বিরল। আহমদ ছফা ব্যতীত এরকম আত্মজৈবনিক লেখা আর কারও পক্ষে অসম্ভব ছিল। পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণে অকৃতদার ছফা রীতিমতো পিতা, পুত্র এক শালিক পাখি। একদিন ছফা খাঁচা খুলে ছেলেকে মুক্ত করে দেন। দুদিন পর শালিক পুত্র এক গার্লফ্রেন্ডসহ ছফার বাংলা মোটরের বাসার ছাদের রেলিংয়ে এসে হাজির। ছফার ভাষায়, ‘দেখাতে এসেছে, ছেলে আমার লায়েক হয়েছে।’
সে রাতে পূর্ণিমা ছিল
বাংলা কথাসাহিত্যের পরম্পরার সঙ্গে বোঝাপড়া থাকলে তারপর শহীদুল জহিরকে ধাবন করতে মজা, এটিই সত্য। সে রাতে পূর্ণিমা ছিল যখন পড়েছি, জানি, এখন পড়তে গেলেও আমার মনে হবে না, এ তো আমার পড়াই আছে, আবার পড়ার কী আছে!
আছে। মজা আছে, মধু আছে। মজাই কি মধু, নাকি মধুই মজা?
ভালো রচনায় সেই মজা আছে, মধু আছে। অর্থাৎ তুমিই আছ। গ্রন্থকীট হয়েছি শুধু তোমাকে পড়ব বলে, সিক্রেট ওপেন করে দিলাম।



