ফকিরের ঝরনায়

পাহাড়, বন আর ঝরনার টানে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে আমাদের গন্তব্য ছিল রাঙামাটি। তবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় এড়িয়ে আমরা পা বাড়িয়েছিলাম পাহাড়ের আরও গভীরে— কাপ্তাইয়ের দুর্গম এলাকায় থাকা ফকিরের ঝরনার সন্ধানে। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের পাশে একটি রেস্টহাউজে রাত্রিযাপন করি। পরদিন সকালে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের একজন কর্মচারী ও কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি ফকিরের ঝরনার উদ্দেশে। বড়ইছড়ি থেকে অটোরিকশায় চেপে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে পৌঁছাই পাগলিপাড়ায়। সেখানে আমাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা সুমন তঞ্চঙ্গ্যা।
সুমন তঞ্চঙ্গ্যা জানান, প্রায় ৮০ বছর আগে এই এলাকায় একজন পাগল ও একজন পাগলি বসবাস করতেন। তাদের বসবাসের সূত্র ধরেই এলাকাটির নাম হয়ে যায় পাগলিপাড়া। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে, এই পাহাড়ি এলাকার কাছের ঝরনাটিই পরে ‘ফকিরের ঝরনা’ নামে পরিচিতি পায়। সুমনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে শুরু হয় আমাদের পায়ে হাঁটা। পাহাড়ি ছড়া ধরে এগিয়ে যেতে যেতে তার কাছ থেকে জানতে থাকি স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, পাহাড়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং প্রতিদিনের সংগ্রামের নানা গল্প।
কখনো উঁচু পথ, কখনো খাড়া ঢাল। কোথাও পাথুরে জমি, কোথাও সরু পাহাড়ি ছড়া। চারপাশে ঘন সবুজের আবরণ। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো এসে পড়ছে পাহাড়ি মাটিতে।
পাগলিপাড়া পেরিয়ে পথ যতই সামনে এগোয়, ততই বাড়ে দুর্গমতা। কোথাও সাবধানে পা ফেলতে হয়, কোথাও পাথর আঁকড়ে এগোতে হয়। প্রায় ৪০ মিনিটের দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার পর হঠাৎ কানে আসে পানির কলকল শব্দ। মুহূর্তেই যেন সবার ক্লান্তি উধাও।
আরও কিছুটা এগিয়ে চোখের সামনে ভেসে ওঠে ফকিরের ঝরনা। দুর্গম পাহাড়ের বুক চিরে স্বচ্ছ পানির ধারা নেমে আসছে নিচে। কিছুক্ষণ আমরা শুধু দাঁড়িয়ে দেখেছি ঝরনার পানির ধারা। শুনেছি তার শব্দ। ঠান্ডা পানির স্পর্শে শরীরের ক্লান্তি যেমন কমল, তেমনি মনও প্রশান্তিতে ভরে গেল।
যেভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে সরসরি বাসে কাপ্তাই যেতে পারেন। আবার রাঙামাটি থেকেও অপূর্ব সুন্দর এক সংক্ষিপ্ত পথ ধরে কাপ্তাই যাওয়া যায়। তারপর বড়ইছড়ি হয়ে ফকিরের ঝরনা।



