শরতের ছড়া-কবিতা

ছবি এঁকেছেন রজত
নীল আকাশ
আশরাফ মাহতাব
নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়
সাদা মেঘের ভেলা,
আজ আকাশে সূর্য-মেঘের
লুকোচুরি খেলা।
ক্ষণেক সূর্য মুখটা দেখায়
আবার হঠাৎ ঢাকে,
ক্ষণেক আবার মারে উঁকি
ছেঁড়া মেঘের ফাঁকে।
ঝিকিমিকি রোদের মাঝে
হঠাৎ বৃষ্টি নামে,
ছাতা খুলে মাথায় দিতেই,
হঠাৎ বৃষ্টি থামে।
সূর্য-মেঘের লুকোচুরি
দেখতে খোকা আসে,
আকাশ পানে তাকিয়ে সে
খিলখিলিয়ে হাসে।
শরৎ আসে
সারমিন চৌধুরী
মেঘের নায়ে চড়ে যখন
শরৎ আসে ঘরে,
বাংলাদেশ যায় তখনই
ছাতিম ফুলে ভরে।
কাশের বনে সাড়া পড়ে
শিশির জমে ঘাসে,
রোদ-মেঘের খেলা দেখে
খোকা-খুকু হাসে।
শরৎ দিনে হৃদয় কোণে
বাজে মধুর গান,
কী সুন্দর দেখতে লাগে
মাঠে আমন ধান।
সাদা পুচ্ছ উড়ে বেড়ায়
মিষ্টি হাওয়ার তালে,
শরৎ আসে রূপ ছড়াতে
ভাদ্র-আশ্বিনকালে।
ভাদ্র মাসে
সুশান্ত কুমার দে
ভাদ্র মাসে তাল পাকে
তালতলায় কে?
খোকা খাবে তালবড়া
বায়না ধরেছে।
ঢপাস ঢপাস তাল পড়ে
দাদু ছুটে ধরে,
খামখেয়ালি একটা তাল
দাদুর মাথায় পড়ে!
আহ্ রে আহ্ তবে কি
ফাটল দাদুর টাক?
না, না, ঐ টাকটা বুঝি
পাকা কাঠের ঢাক!
‘কত তাল পড়ল মাথায়’—
দাদু হেসে কয়,
‘অসার কাঠের মাথা যার
তার ততই ভয়।’
শরৎ
জাহান আরা খাতুন
আকাশ মাঠে ছড়িয়ে রাখে নীল শাড়িটা তার
সাদা মেঘের সুতোয় বোনা পাড়টা চমৎকার!
শিউলি ফুলের গন্ধ মেখে
অথির বাতাস কয় যে ডেকে—
‘নদীর তীরে কাশবনে একটু চলো যাই
ওদের সাথে খেলতে আমি খুব যে মজা পাই।’
সবুজ সবুজ ধানের ক্ষেতে মন হারিয়ে যায়
নিঝুম রাতে জোছনাপরী নাচে আঙিনায়।
শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে
ঝিলিক ঝিলিক আলো হাসে
তালের পিঠার গন্ধে নাচে খোকাখুকুর মন
কী অপরূপ শরৎরানীর স্নিগ্ধ আয়োজন।
রূপ শোভা
মাহবুব লাভলু
শুভ্র সুনীল আকাশ মাঝে তুলোট মেঘের খেল
কী অপরূপ রূপের শোভা আনন্দে উদ্বেল।
কোন গুহাতে লুকানো মেঘ শরৎ এলে ভাসে?
দাদুর সাদা চুলদাড়ি কি কাশের বনে হাসে!
মনটা তখন পাখনা মেলে হঠাৎ হাওয়ায় ভেসে
মেঘের ডানায় উড়ে উড়ে তেপান্তরে মেশে।
জোছনাধোয়া আকাশ জুড়ে হাজার তারার ডালা
খুকির গলায় সুবাস ছড়ায় শিউলি ফুলের মালা।
ঢেউ তিরতির নদীর পাড়ে সাদা কাশের হাসি
শরৎ শোভা মনোলোভা বড্ড ভালোবাসি।





