জ্বালানি সংকটের কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী, দেখালেন সমাধানের পথ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ
দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য আগের সরকারকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংকট উত্তরণে বর্তমান সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানালেন তিনি।
বর্তমান জ্বালানি সংকট এবং তার প্রভাবে বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে আজ বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয় নিয়ে কথা বলেন বলে বাসস জানিয়েছে। তাতে প্রশ্ন করেছিলেন নারী সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা।
সংকটের কারণ দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিনের যে অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানি নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান জ্বালানি সংকট।’
এই সংকট উত্তরণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তা সংসদে তুলে ধরেন তিনি।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩০টি কূপ এরই মধ্যে খনন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে।
আরও ৭টি কূপ খননের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলে আরও ৮৫টি এমএমসিএফডি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
গ্যাস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার টু ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার থ্রি ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথাও তিনি বলেন।
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুটি নতুন রিগ কেনার কথাও সরকারপ্রধান বলছিলেন।
সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে ‘অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬’ অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগের জন্য ‘অনশোর মডেল পিএসসি’ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আশাবাদী, নতুন করে অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
গ্যাস আমদানি নিয়ে তারেক রহমান বলেন, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে। ২০২৮ সাল নাগাদ ওই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভবপর হবে।
আগামী ২ বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়ানোর লক্ষ্যের কথা জানান তিনি। এ ছাড়া পায়রা বা মোংলাবন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরিভিত্তিতে নতুন ২-১টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।





