ভিন দেশের ভূত
ভুতুড়ে পাহাড়

কুয়াশায় মোড়া বিকালটা তখনো পুরোপুরি রাতের অন্ধকারে মেলেনি; কিন্তু কারশিয়াংয়ের ডাও হিলের পাইন বনে সূর্য পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই। ঘন পাইন আর ধূপ গাছের শাখা-প্রশাখার ফাঁক গলে যেটুকু আলো আসছিল, তাও কেমন এক অদ্ভুত ধূসর। কুঠার কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক প্রবীণ কাঠুরে। পথটি ডাও হিল রোড থেকে ফরেস্ট অফিসের দিকে যাওয়া সেই কুখ্যাত পথ, যা স্থানীয় মানুষের কাছে শুধু একটি রাস্তা নয়— ‘ডেথ রোড’।
হঠাৎই বনের ভেতরের নীরবতা ভেঙে বাতাসে ভেসে এলো শুকনো পাতা মচমচ করার শব্দ। কাঠুরে থমকে দাঁড়ালেন। বনের গভীরে কয়েক গজ দূরে ঘন কুয়াশার পর্দা ঠেলে ধীরে ধীরে হেঁটে আসছে ছোট একটা অবয়ব। কোনো এক ইশকুলের বাচ্চা ছেলে যেন খেলায় মেতেছে। কিন্তু আরেকটু এগোতেই কাঠুরের বুকের ভেতরটা হিম হয়ে এলো— ছেলেটির ঘাড়ের ওপর কোনো মাথা নেই!
ধড়টুকু নিঃশব্দে হেঁটে গিয়ে মিশে গেল একটা বিশালাকার ধূপ গাছের পেছনে। ভয়ে কাঠুরের হাতের কুঠার খসে পড়ল মাটিতে। তারপর এক দৌড়ে বাড়িতে।
কারশিয়াংয়ের এই ডাও হিল শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৮৬১ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এক পাহাড়ি সৌন্দর্য নয়; এটি এমন এক স্থান, যেখানে প্রকৃতির রূপ আর অলৌকিক আতঙ্ক একই সুতায় গাঁথা। ‘ডেথ রোড’-এর এই ভয়াল পরিবেশের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের সাক্ষী— ‘ভিক্টোরিয়া বয়েজ হাই স্কুল’।
ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের কনকনে শীতে যখন স্কুল বন্ধ থাকে, তখন পুরো ডাও হিল যেন এক মৃতপুরীতে পরিণত হয়। এক শীতের রাতে বন্ধ স্কুলের বাইরে পাহারা দেওয়ার সময় তিনি দোতলার একটি বন্ধ ঘরের কাচের জানালায় আলো দেখতে পান। ভারী বুটের আওয়াজ আর একদল শিশুর ফিসফিস করে কথা বলার শব্দ ভেসে আসছিল। টর্চের আলো জ্বেলে যেই না তালা খুলে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকলেন, শব্দ নিমেষে বন্ধ হয়ে গেল।
ইংরেজ আমল থেকেই ডাও হিল বন বিভিন্ন সময় কঙ্কাল ও মানুষের হাড়গোড় উদ্ধারের কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, কৌতূহলবশত যেসব পর্যটক বা অভিযাত্রী রাত নামার পর বনের গভীরে ঢুকেছেন, তাদের অনেকেই আর কখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেননি।





