দেশে ফলছে বিদেশি ফল
- চুয়াডাঙ্গায় চাষ হচ্ছে ১৫ ধরনের বিদেশি ফল
- কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন তরুণরা
- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে উৎপাদিত ফল

কয়েক বিঘা জমি দিয়ে শুরু করে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন শত বিঘার বাগান। ছবি : আগামীর সময়
ধান, পাট আর ভুট্টার চেনা মাঠে এখন দেখা মিলছে ড্রাগন, মাল্টা, আঙুর, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটানসহ বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের। চুয়াডাঙ্গার উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এসব ফলের চাষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক বাগানে। কয়েক বিঘা জমি দিয়ে শুরু করে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছেন শত বিঘার বাগান। সদর, জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার কৃষিতে এমন পরিবর্তন খুব বেশি পুরনো নয়। তবে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চুয়াডাঙ্গায় বর্তমানে ২ হাজার ৩১৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে। এসব বাগানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৯ হাজার ৩৪৫ জন কৃষক। ড্রাগন, মাল্টা, কমলা, শরিফা, আঙুর, রকমেলন, আনারকলি, হলুদ মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, স্ট্রবেরি, বারোমাসি কাঁঠাল, সিডলেস লেবু, ডালিম ও লংগান— ১৫টিরও বেশি প্রজাতির ফল এখন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে জেলায়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন শিক্ষিত তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা। চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তাদের কেউ পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেছেন, কেউ আবার কয়েক বিঘার বাগানকে নিয়ে গেছেন শত বিঘার পরিসরে।
সদর উপজেলার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের মোকাররম হোসেন তিন বিঘা জমিতে মাল্টা দিয়ে শুরু করেছিলেন আবাদ। এখন তার ফলের বাগান প্রায় ১০০ বিঘা। প্রতিদিন সেখানে কাজ করেন ৩০-৪০ জন শ্রমিক। একইভাবে চার বিঘা জমিতে মাল্টা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে ১২০ বিঘা জমিতে সমন্বিত ফল চাষ করছেন সাদ্দাম হোসেন।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকারও ফল চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষায়, জেলার মাটি উর্বর এবং এখানকার পরিবেশে বিভিন্ন বিদেশি ফল ভালো মানিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ফলের বাগান রয়েছে জীবননগরে। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬৮৮ হেক্টর জমিতে ড্রাগন, ৩১২ হেক্টরে মাল্টা, ১২০ হেক্টরে কমলা, ৯ হেক্টরে আঙুর, ৬ হেক্টরে রকমেলন, ৪ হেক্টরে অ্যাভোকাডো এবং ২ হেক্টরে আনারকলির চাষ হয়েছে। এ ছাড়া শরিফা, রাম্বুটান, আনার ও বারোমাসি কাঁঠালেরও চাষ হচ্ছে। পেয়ারা চাষ রয়েছে ৭৪৮ হেক্টর জমিতে।
জীবননগরের রাজাপুর গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে ৯ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান দিয়ে শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার বাগানের পরিধি প্রায় ১৪০ বিঘা। সেখানে ৪০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের মাল্টা, ৩৫ বিঘায় আম এবং বাকি জমিতে ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ প্রায় ২০ ধরনের দেশি-বিদেশি ফল রয়েছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বললেন, ‘বিদেশি ফল চাষে বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ। কৃষি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে তাদের।’





