ইসরায়েলকে ৮০ কোটি ইউরোর অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন জার্মানির

ফ্রিডরিখ মেৎস ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু- রয়টার্স
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে ইসরায়েলকে প্রায় ৮০ কোটি ইউরো (৯৩ কোটি ডলার) মূল্যের অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে জার্মান সরকার। সরকারি একটি সংসদীয় প্রশ্নের জবাবের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল। গত বছর বার্লিন যে পরিমাণ অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছিল, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের এই অঙ্কই তার চার গুণ।
সরকার জানিয়েছে, অনুমোদিত রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জার্মানি ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যার সুবিধা পাবে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীও। অনুমোদিত রপ্তানির মোট মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর আইএনএস ড্রাকনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ ডলফিন টু শ্রেণির এই সাবমেরিনটি জার্মান জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিকেএমএস ইসরায়েলের জন্য তৈরি করেছে। কয়েক সপ্তাহ পানির নিচে থাকতে সক্ষম সাবমেরিনটি মঙ্গলবার কিয়েল বন্দর ছেড়েছে এবং এটি ইসরায়েলের পথে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডের স্পিগেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাকি অংশের মধ্যে এমন সরঞ্জাম রয়েছে, যেগুলোকে ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ছোট অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও ড্রোন।
এসব চুক্তির বিষয়ে বার্লিনের বিরুদ্ধে ‘সীমাহীন দ্বিমুখী নীতির’ অভিযোগ করেছে বামপন্থী দল দ্য লেফট পার্টি।
দলটির সংসদ সদস্য লিয়া রেইসনার বললেন, ‘[চ্যান্সেলর] ফ্রিডরিশ মেৎস [ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার] বেন-গভিরের অমানবিক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে দাবি করলেও, তার ফেডারেল সরকার এমন একটি সরকার ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা এগিয়ে নিচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় সমর্থন এবং দক্ষিণ লেবাননের দখল অব্যাহত রাখা হচ্ছে।’
বিতর্কিত ওই ইসরায়েলি মন্ত্রী গত মাসে বলেছিলেন, তিনি ওই ভূখণ্ডকে ‘তাদের’ বলে মনে করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সেখানে প্রতি রাতে ডজনখানেক ‘লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড’ চালানোর আহ্বান জানান। তার দাবি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটির কিছু বাসিন্দা ‘মানুষ নয়’।
জার্মানির ওয়ার উইপেনস কন্ট্রোল অ্যাক্ট অনুযায়ী, অস্ত্র ‘শান্তি বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ডে’ ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকলে অথবা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জার্মানির বাধ্যবাধকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স ‘সবসময় প্রত্যাখ্যান করতে হবে’।
২০২৫ সালের আগস্টে গাজা সিটি দখলের জন্য পশ্চিম জেরুজালেমের পরিকল্পনার কারণে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল বার্লিন। তবে হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর নভেম্বরে সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয় তারা। এরপরও গাজায় এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ এখনো ইসরায়েল দখল করে রেখেছে।
এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়াচ্ছে জার্মানি। বুধবার জার্মান নৌবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর আটলান্টিকে ইসরায়েলি একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। জার্মানির নিজেদের কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেই। তাদের সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হলো টাউরাস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র।
দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা একটি মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েল গণহত্যার অভিযোগের মুখে রয়েছে। এর মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির অবিচল সমর্থনের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বার্লিনের সমর্থন কমে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে জুনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে জার্মানি।
সূত্র: আরটি






