বেশি দামে এলএনজি কিনছে সরকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও বেশি দামে চার জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে যাচ্ছে সরকার। এবার প্রতি এমএমবিটিইউ (মেট্রিক মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ২৮ মার্কিন ডলারের বেশি দামে এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ দাম গত কয়েক সপ্তাহে অনুমোদিত দামের তুলনায় বেশি।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এবার চারটি এলএনজি কার্গোর মধ্যে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের দুটি জাহাজের প্রতি এমএমবিটিইউ দাম যথাক্রমে ২৭.৫৪ ও ২৩.৯৮ ডলার। বিপি সিঙ্গাপুরের একটি জাহাজের দাম ২৮.০৩ ডলার এবং ভিটল এশিয়ার একটি জাহাজের দাম ২৬.৬৬ ডলার। এর আগে ২৪ আগস্টের বৈঠকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪.৬৩ ডলার এবং ১৭ আগস্টে ২৩.৯৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অথচ গত বছরের ডিসেম্বরেও সরকার ১০.৫০ ডলারের কম দামে এলএনজি কিনেছিল। ফলে কয়েক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে।
এদিকে নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অলিন ও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ৪৪৫.৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৮৩.৮৫ টাকা পয়সা লিটার দরে ২ কোটি লিটার পাম অলিন কিনতে ব্যয় হবে ৩৬৭.৭০ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ পরিবহনসহ টিসিবির গুদাম পর্যন্ত তেল সরবরাহ করবে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন গ্রহণযোগ্য দরদাতা বঙ্গ মিলার্স এর কাছ থেকে এ ডাল কেনা হবে।
এ ছাড়া কৃষকদের চাহিদা মেটাতে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি ও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই ধরনের সার আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতি টন ৮৯৪ ডলার দরে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কিনতে ব্যয় হবে ৪৪০ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার টাকা। আর ৬৬৯ দশমিক ৩৩ ডলার দরে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কিনতে ব্যয় হবে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬০ টাকা।





