শেয়ারবাজার
পিএসআই প্রকাশ না করায় বেক্সিমকোর ব্যাখ্যা তলব
- রূপালী ব্যাংকের ১৯১ কোটি টাকা পাওনা
- গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা বেক্সিমকোর প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের কাছে রূপালী ব্যাংকের ১৯১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। পাওনা আদায়ে প্রতিষ্ঠানটির বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংকটি। তবে বেক্সিমকো তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে প্রকাশ করেনি। ফলে কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা বেক্সিমকোর প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগের বিষয়ে কেন বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়নি, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। সম্প্রতি বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। চিঠিটি দেওয়া হয় বিএসইসির ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সুপারভিশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব ইস্যুয়ার কোম্পানিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে বিএসইসি জানতে পারে, খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য বেক্সিমকোর বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য কোম্পানির পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেছেন, ‘বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।’
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পাওনা ১৯১ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত বেক্সিমকোর প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ঋণ এবং দায়দেনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিএসইসি। কারণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে— এমন তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং সেই ঋণ আদায়ে সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগ কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও সম্পদ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণে বিএসইসি মনে করছে, নিলামের বিষয়টি তাদের ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা, ২০২২’-এর মূল্য সংবেদনশীল তথ্যসংক্রান্ত বিধি-৩-এর উপবিধি (১)(অ)-এর আওতাভুক্ত। একই সঙ্গে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের পদ্ধতিসংক্রান্ত বিধি ৬(১)-এর বিষয়টিকেও বিবেচনায় নিয়েছে কমিশন।
কমিশনের পর্যালোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। নিলামের বিষয়ে বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে কমিশন বা সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে কোনো পিএসআই প্রকাশ করার তথ্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে নিলামের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিয়োগকারীদের কিছু জানানো হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। এ কারণেই কোম্পানিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
চিঠিতে বেক্সিমকোর অবস্থান, ব্যাখ্যা এবং কেন বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। কোম্পানিকে চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিশনের কাছে। তবে এখনো বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে চিঠির কোনো ব্যাখ্যা পায়নি কমিশন।
একইভাবে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিএসই কর্তৃপক্ষ।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির বড় অঙ্কের ঋণ এবং সেই ঋণের বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিলামে তোলার ঘটনা সাধারণ ব্যবসায়িক তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বিশেষ করে নিলামের মাধ্যমে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে তা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা যাতে সমান সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের তথ্য প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চিঠিটির অনুলিপি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ফলে বেক্সিমকোর ব্যাখ্যা এবং এ বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারে হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ।





