না খেলেই ৬ মাসে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসের ভেতর দুবার ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ালেন তামিম ইকবাল। প্রথম দফায় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়িয়েছিলেন তামিম। এরপর গতকাল আরও এক দফা তাদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছেন বিসিবি সভাপতি। কারণ হিসেবে যদিও বলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর কথা, তবে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে না পারার ক্ষতি পোষাতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, এ বছর বিপিএল না হওয়া এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে অবনমন না থাকা ও সুপার লিগ না থাকায় দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সেই ক্ষতি খানিকটা পূরণ করার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে বিসিবি। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। তামিম অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে পুরুষদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠে গড়ানোর আগেই এসেছে আরেক দফা বৃদ্ধির ঘোষণা— এবার ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। অর্থাৎ গত মৌসুমের চেয়ে শতভাগের চেয়ে বেশি ম্যাচ ফি বাড়ল ক্রিকেটারদের, সেটিও কোনো ম্যাচ না খেলেই!
আনুপাতিকভাবে বেড়েছে বিসিবি আয়োজিত ৫০ ও ২০ ওভারের ম্যাচের ম্যাচ ফিও। তামিম বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে কোয়াবের সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করেছি। সবাই অনেক খুশি। একজন খেলোয়াড় ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো সিজন খেললে বছরে ৩৫-৪০ লাখ টাকা করে পাবে।’
সীমিত ওভারের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে বিসিবি এনসিএল টি-টোয়েন্টি এবং বিসিএল ওয়ানডে আয়োজন করে থাকে, তবে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিসিএলের প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট এবং এনসিএল টি- টোয়েন্টিকে এক ছাতার নিচে এনে নতুন একটি টুর্নামেন্ট চালু করার ব্যাপারে অনেকটাই এগিয়ে গেছে।
বিপিএল না হওয়ার ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) দেনদরবার করেছে বিসিবির সঙ্গে। বছর দুই আগে তামিম নিজেও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হয়ে সাবেক বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক কমিয়েও বিপিএলটা আয়োজন করার, অথচ এ বছর কেন এত আগেই হাল ছেড়ে দেওয়া। তামিম বৃহস্পতিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাদে অন্য কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে চুক্তিই হয়নি আগের বিপিএলে, তাদের কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা চেক কিছুই জমা নেই বিসিবির কাছে। আমি ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম বিপিএল করার জন্য অনুরোধ করতে, এটা যেমন সত্যি; তেমনি সত্যি হচ্ছে কয়েকদিন পর আমি আবার গিয়ে বলেছি দুটি দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি না দিতে। এর মধ্যে একটা হচ্ছে রাজশাহী। এরপর আপনারাই দেখেছেন কী অবস্থা হয়েছে।’ শুধু আর্থিক লোকসান এড়াতেই যে বিসিবি এ বছর বিপিএল আয়োজন করা থেকে বিরত আছে, ব্যাপারটা তা নয়, ‘আমরা শুধু যে আর্থিক ক্ষতির কারণে বিপিএল করছি না, তা নয়। যদি মাঠে খেলাটা ভালো হতো, খেলোয়াড়রা ঠিকঠাক টাকা পেত, হোটেলগুলো তাদের টাকা পেত, যারা যানবাহন সরবরাহ করেছে তারা টাকা পেত, তাহলে ক্ষতিটা মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু কিছুই যেখানে ঠিক নেই, সেখানে কেন এই টুর্নামেন্ট আমাদের তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামাতে হবে?’
তামিমের যুক্তির সঙ্গে ক্রিকেটাররাও একমত হয়েছেন, কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার যেন উপকৃত হয়, সেটা বেছে নিয়েছি।’
বিপিএল স্থগিত রাখা নিয়ে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং তামিমের ঘোষণা— এ দুইয়ের ভেতর কোনো যোগসূত্র আছে নাকি ব্যাপারটা নিতান্তই কাকতালীয়, সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকারী কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির ৯৬ ঘণ্টার ভেতর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বেড়ে গেল।





