নেপাল-চীনে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ১২৮০

ছবি: রয়টার্স
চীন-নেপাল সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ২৮০ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ হাজার ৬০০ জনের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৫০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় এখনো অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ টানেলের ভেতরেও আটকে থাকতে পারেন।
নেপালের প্রতিবেশী তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষ ২১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেখানে এখনো ৫৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়া জেলা। সেখানে একটি টানেলের প্রবেশপথে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কাদা সরাতে কাজ করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
নেপাল সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কে সি বলেছেন, ভেতরে এখনো কেউ বেঁচে থাকতে পারেন বলে তারা আশা করছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বড় একটি স্থাপনা হওয়ায় ভেতরে অনেকটা জায়গা রয়েছে। পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পানিতে তলিয়ে যায়নি বলেও তারা আশা করছেন।
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে প্রতিদিন সকালে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের অপেক্ষা ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠছে।
নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা বলেছেন, প্রতিদিন বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায় তিনি সেখানে আসেন। কিন্তু প্রতিদিন সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে তার আশাও ফিকে হয়ে আসে। বাবা সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার কাছে বাবা ছিলেন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ।
দুর্গম গ্রামগুলোতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে জিপলাইন ও হেলিকপ্টারসহ সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বন্যা ও কাদার স্রোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।
রাজধানী কাঠমান্ডুতে মরদেহ শনাক্তে কাজ করছেন ফরেনসিক দলের সদস্যরা। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অনেক মরদেহ পচে যাওয়ায় শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে শরীরে থাকা ট্যাটু ও গয়না শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে বলে ফরেনসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বুধবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।
এনডিআরআরএমএর প্রধান ধর্ম রাজ উপ্রেতি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি জানান, একই জায়গায় আবার বাড়ি তৈরি করা ঠিক হবে না। এতে মানুষ আবারও একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই নিরাপদ এলাকা চিহ্নিত করে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সেখানে সরিয়ে নতুন বসতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এই দুর্যোগের জন্য বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা নেপালের মতো দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে।






