বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
বায়োডাটা, সিভি ও রেজুমে কোনটি কখন ব্যবহার করবেন

রুবিনা খান
বিস্তারিত জানাচ্ছেন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও সিভি রিভিউয়ার রুবিনা খান
চাকরি বা পেশাদার ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য বায়োডাটা, সিভি ও রেজুমে— এই তিন শব্দ প্রায়ই এক অর্থে ব্যবহার করা হলেও এগুলোর গঠনগত রূপ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই এই তিনের মূল পার্থক্য না বুঝে ভুল নথি জমা দেন, যা পেশাদারিত্বের পরিপন্থী। প্রথমেই আসে বায়োডাটা, যা মূলত ব্যক্তির জীবনবৃত্তান্তের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। এতে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন— জন্মতারিখ, লিঙ্গ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা, শখ এবং পারিবারিক পটভূমি প্রাধান্য পায়। এটি সাধারণত বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজার অথবা অত্যন্ত সাধারণ বা সরকারি কিছু চাকরির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে দক্ষতার চেয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্ব বেশি।
এর বিপরীতে সিভি বা কারিকুলাম ভিটা একটি অত্যন্ত বিস্তারিত ও সুবিন্যস্ত দলিল, যা সাধারণত দুই থেকে তিন পৃষ্ঠা বা তার চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে। সিভিতে প্রার্থীর সম্পূর্ণ শিক্ষাজীবন, গবেষণাপত্র, অ্যাকাডেমিক অর্জন, ফেলোশিপ, পুরস্কার এবং শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার মতো বিষয় কালানুক্রমিকভাবে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এ কারণে অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্র, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, চিকিৎসা খাত কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির আবেদন করার সময় সিভির ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এটি প্রার্থীর মেধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্যারিয়ারের একটি গভীর চিত্র নিয়োগকর্তার সামনে উপস্থাপন করে।
অন্যদিকে, বহুল ব্যবহৃত রেজুমে হলো করপোরেট চাকরির জন্য তৈরি মাত্র এক বা সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার একটি সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় নথি। রেজুমের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো নির্দিষ্ট পদের জন্য প্রার্থীর কাজের অভিজ্ঞতা, প্রধান প্রধান পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রের সাফল্যগুলো খুব কম শব্দে হাইলাইট করা। করপোরেট খাতের নিয়োগকর্তারা যেহেতু একেকটি আবেদনের পেছনে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন, তাই রেজুমেকে অত্যন্ত চমৎকার ও স্ক্যানযোগ্য করে সাজাতে হয়।
এককথায়, আপনি যদি করপোরেট চাকরির আবেদন করেন, তবে রেজুমে, শিক্ষা বা গবেষণা খাতে আবেদন করলে সিভি আর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে বায়োডাটা ব্যবহার করাই সঠিক নিয়ম।




