জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় ডিসির ওপর হামলার খবরটি মিথ্যা

ছবি: আগামীর সময়
ভারতভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্ট ‘@pakistan_untold’ থেকে ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট দাবি করা হয়—এক জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করার পর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথের ওপর হামলা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা এবং তাঁকে প্রায় মেরেই ফেলা হয়েছিল।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দ্বৈত নাগরিকত্বজনিত কারণে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর দলের সমর্থকেরা বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলেও, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের ওপর কোনো প্রকার শারীরিক হামলা কিংবা তাঁকে আহত করার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
রিভার্স ইমেজ সার্চ ও সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের মাধ্যমে জাতীয় দৈনিক ‘যুগান্তর’, ‘প্রথম আলো’ এবং ‘বণিক বার্তা’-য় প্রকাশিত সংবাদের সাথে ঘটনাটির সরাসরি সূত্র পাওয়া যায়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়ার সময় দ্বৈত নাগরিকত্বের কাগজপত্রজনিত জটিলতার কারণে কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংক্ষুব্ধ প্রার্থীর নিয়মানুযায়ী আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ‘একুশে টেলিভিশন’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণার পর জামায়াতের নেতা-কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং কার্যালয়ের বাইরে প্রতিবাদ সভা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তথ্য যাচাই ও শারীরিক হামলার সত্যতা
বাছাই প্রক্রিয়ার সময় জামায়াত সমর্থকেরা হট্টগোল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও, প্রকাশিত কোনো সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে শারীরিক আক্রমণ, লাঞ্ছিত করা কিংবা তিনি ‘প্রায় নিহত’ হওয়ার মতো কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই।
প্রাপ্ত সকল তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, এক্স-এ ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর। একটি নির্বাচনী আপিল ও আইনি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিক্ষোভের ঘটনাকে বিকৃত করা হয়েছে। মূল তথ্য আড়াল করে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারী কর্মকর্তার ওপর আক্রমণের গল্প সাজিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।






