আলিফের ওপর হামলার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারের দাবিটি সত্য নয়

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চোখে রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা সংগঠক আলিফ চৌধুরী (১৯)। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে— ‘আলিফের চোখ উপড়ে দেয়া দুই ছাত্রদল নেতাকে সিলেট হবিগঞ্জ থেকে ‘গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত ছবি ও দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় আলিফের ওপর হামলার অভিযোগে কোনো ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তারের দৃশ্য এটি নয়। প্রকৃতপক্ষে, গত জুন মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের পুরোনো ছবি ব্যবহার করে এই বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে।
মূল ভিডিও ও ছবির প্রকৃত উৎস
ছবির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামলে জাতীয় দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গত ১৮ জুন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘বিজয়নগরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতা কারাগারে’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত খবরের ছবির সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবিটির শতভাগ মিল পাওয়া যায়।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ১৭ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিজয়নগরের সেই গ্রেপ্তারকৃতদের ছবিকেই পরবর্তীতে হবিগঞ্জের ঘটনার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জের প্রকৃত পরিস্থিতি ও মামলার বিবরণ
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হন জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সংগঠক আলিফ চৌধুরী।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘হবিগঞ্জে আলিফের ওপর হামলার দায়ে দুই ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার’ দাবিতে প্রচারিত খবর ও ছবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। জুন মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তারের পুরোনো ছবি এনে এনসিপির সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে মিলিয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।








