আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ‘আন্তঃনগর’

প্রান্তর দস্তিদার
অভিনয় করেছেন ‘৮৪০’, ‘জিম্মি’ ও ‘প্রেশার কুকার’-এর মতো প্রকল্পে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েব কনটেন্ট— সব মাধ্যমেই আছেন প্রান্তর দস্তিদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
অভিনয়ে আসার গল্পটা কী?
ক্যামেরার পেছনে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, লাইন প্রডিউসার ও জুনিয়র প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছি। এ ছাড়া একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় প্রায় তিন বছর স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানার হিসেবেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে। সব মিলিয়ে অভিনয়ে আসার আগে প্রায় ছয়-সাত বছরের অভিজ্ঞতা হয়েছে। একসময় একটি প্রজেক্টের পোস্ট প্রোডাকশন সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিলাম। তখনই পরিচালক গৌতম কৈরী দা আমাকে দেখে ‘আন্তঃনগর’ ওয়েব ফিল্মে নির্বাচন করেন। ফিল্মটির শুটিং শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মনে হলো, অভিনয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা যায়।
ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট?
এখন পর্যন্ত কোনো একটি কাজকে নির্দিষ্টভাবে টার্নিং পয়েন্ট বলতে পারছি না। কারণ আমার গন্তব্য অনেক দূরের। ওটিটির কাজগুলো আমাকে বেশি ভালো অভিজ্ঞতা দিয়েছে। আমার ক্যারিয়ারে একটি কাজের চেয়ে বিভিন্ন কাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘আন্তঃনগর’ আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করতে পারি।
অভিনয়ের পথে হাঁটা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
বিশ্ববিদ্যালয়ে (ব্রাক) পড়ার সময়ই বুঝতে পেরেছিলাম, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করব মূলত মা-বাবার জন্য। তাদের ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছি। কিন্তু নিজের জন্য অন্য কিছু করার স্বপ্ন ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল সিনেমা নির্মাণ, গল্প বলা এবং চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকা। অভিনয় সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা। এখানে প্রতিনিয়ত শিখতে হচ্ছে।
কোন কাজগুলোতে ভালো সাড়া পেয়েছেন?
‘আন্তঃনগর’ আমার জন্য বিশেষ একটি কাজ। এ ছাড়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিচালনায় ‘৮৪০’-এ কাজ করেছি। নাটকের মধ্যে রুবেল আনুশের ‘বিউটিফুল’সহ বেশ কয়েকটি ভালো দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। আশফাক নিপুণের পরিচালনায় ‘জিম্মি’তেও অভিনয় করেছি। এ ছাড়া ‘প্রেশার কুকার’-এ ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রটি ছোট হলেও আমার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল।
সামনে কী কাজে দেখা যাবে?
এরই মধ্যে তিনটি সরকারি অনুদানের সিনেমার কাজ শেষ করেছি— ‘মস্ত বড়লোক’, ‘সখী রঙ্গমালা’, ‘জীবন আমার বোন’। এখন পোস্ট প্রোডাকশন, ডাবিংসহ অন্যান্য কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী বছরের মধ্যে ধীরে ধীরে মুক্তি পাবে। এ ছাড়া গিয়াসউদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় ‘সেপারেশন’ নামে একটি কাজ আসছে। এছাড়া টেলিভিশন নাটক তো নিয়মিত করছি।
বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করছেন। মূল লক্ষ্য কী?
আমার লক্ষ্য একটাই— ভালো গল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা। সম্প্রতি উপস্থাপনাও শুরু করেছি। ‘ব্লেন্ডার্স চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যাওয়ার্ড’-এ রেড কার্পেট হোস্ট করেছি। আগামী ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ডসে মূল মঞ্চ উপস্থাপনা করব। অভিনয়ের বাইরে নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই উপস্থাপনায় আসা।
পরিচালনায় আসার ইচ্ছা আছে?
আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পরিচালনায় আসার কোনো পরিকল্পনা নেই। পরিচালনা কিংবা প্রযোজনা করতে হলে আরও অনেক পড়াশোনা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন। আমার সেই প্রস্তুতি এখনো শেষ হয়নি। আপাতত অভিনয়েই মনোযোগ দিতে চাই। অভিনয় নিয়েই নিজের মতো করে পড়াশোনা করছি। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা সময় বলে দেবে।
অভিনয় দক্ষতা বাড়াতে কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
অভিনয় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন শৃঙ্খলা। আমি আপাতত জীবনে একটি শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছি। স্ট্যানিস্লাভস্কি থেকে শুরু করে ব্রেখটের অভিনয়বিষয়ক বিভিন্ন তত্ত্ব ও নিয়ম পড়েছি। চরিত্রটি বুঝতে পারলে অনেক প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। এজন্য নিয়মিত অনুশীলন প্রয়োজন। আমি আরও কয়েক বছর অভিনয় করার পর বিভিন্ন ওয়ার্কশপ করতে চাই। কারণ অভিনয়ের একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন তৈরি হয়ে গেলে সমস্যা হতে পারে। নিজেকে ভাঙতে চাই, নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চাই। এখন অভিনয় করে যে আনন্দ পাচ্ছি, তা আগে কখনো পাইনি।



