আফ্রিকান চলচ্চিত্র উৎসব
লাল গালিচা যেন বেকারি

আফ্রিকা ম্যাজিক ভিউয়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডসে তারকারা এমন সব আজব আর জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে হাজির হয়েছিলেন
আফ্রিকার সবচাইতে বড় চলচ্চিত্র উৎসব ‘আফ্রিকা ম্যাজিক ভিউয়ার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস’ এবার নাইজেরিয়ার বুকেই এক এলাহি কাণ্ড ঘটিয়ে দিয়েছে। ১২তম এই আসরে তারকারা এমন সব আজব আর জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে হাজির হয়েছেন যে তা দেখে সাধারণ জনতার চোখ এখন কপালে উঠেছে।
পুরস্কার জেতার চেয়েও কে কতটা অদ্ভুত সেজে রেড কার্পেটে ঝড় তুলতে পারেন, তা নিয়েই যেন সবার মধ্যে এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছিল সারারাত ধরে।
সবচাইতে বেশি হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন রিয়েলিটি শো তারকা কুইন মার্সি আতাং, কারণ তিনি আস্ত ৫০০টি পাউরুটি দিয়ে তৈরি এক আজব গাউন পরে অনুষ্ঠানে চলে এসেছেন। তার এই বিশাল রুটির পোশাক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বেশ কয়েকজন সহকারী, এমনকি দুজন নারী আলাদাভাবে ট্রে-তে করে আরও রুটি নিয়ে তার পাশে হাঁটছিলেন।
কুইন মার্সি মুচকি হেসে জানান যে এটি কোনো খামখেয়ালি নয়, বরং নিজের পাউরুটির ব্যবসার প্রচার চালাতেই তিনি এই বুদ্ধিদীপ্ত মার্কেটিং বেছে নিয়েছেন।
ঘানার ফ্যাশন কন্যা নানা আকুয়া আদ্দো আবার জার্মানির এক বিখ্যাত গির্জার আদলে রুপালি রঙের এক স্থাপত্য সদৃশ পোশাক পরে সবাইকে রীতিমতো ভড়কে দিয়েছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু করে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে এই পোশাকটি তিল তিল করে বানানো হয়েছে বলে ডিজাইনার আব্বাসওম্যান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। এই ভারি পোশাক পরে নানা আকুয়া যখন হাঁটছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন আস্ত এক রাজপ্রাসাদ রেড কার্পেটে হেঁটে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে অভিনেত্রী উচে মন্টানা আগুনের শিখা আর ফিনিক্স পাখির আদলে লাল-সোনালি পালক লাগানো এক পোশাকে পুরো নজর কেড়ে নিয়েছেন। তিনি একচোট আক্ষেপ করে বলেন যে লোকে ভাবে তারকাদের এসব পোশাক সব ব্র্যান্ড মাগনা দেয়, কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে যে কত টাকা আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয় তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। উচে এদিন কেবল পোশাকেই চমক দেখাননি, বরং উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে ‘ট্রেইলব্লেজার অ্যাওয়ার্ড’ বগলদাবা করে বাড়ি ফিরেছেন।
পুরস্কারের মঞ্চে লিন্ডা এজিওফোর এক রাতেই সেরা অভিনেত্রী ও সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন, যা আগে কেউ কোনোদিন পারেননি। ইগবো ভাষার সঠিক উচ্চারণের জন্য তার মা তাকে দিনরাত সাহায্য করেছিলেন বলে তিনি পুরস্কার হাতে নিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
আসরের সেরা সিনেমা আর সেরা পরিচালকের তকমা জিতেছে ‘মাই ফাদারস শ্যাডো’, যা গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবেও নাইজেরিয়ার মুখ উজ্জ্বল করেছিল বিশ্বমঞ্চে।
আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন কিংবদন্তি সোলা সোবোওয়ালে আর কানায়ো ও. কানায়ো, যাদের রাজকীয় উপস্থিতি পুরো আসরের মান বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ।
অভিনেতা স্ট্যান এনজে আর টোবি বাক্রে নিজ নিজ জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আভিজাত্য ছড়িয়েছেন, আবার মনিকা ফ্রাইডে তার পোশাকে সাত দেশের পতাকা ফুটিয়ে তুলেছেন বিশ্বশান্তির বার্তা দিতে।
ওসাস ইঘোদোরো আর ওজে পশারেলাদের মতো ডিজিটাল দুনিয়ার তারকারাও পাথরের কারুকাজ করা ঝলমলে পোশাকে রেড কার্পেটে যে পরিমাণ গ্ল্যামার ছড়িয়েছেন, তা অনেকদিন মনে রাখবে আফ্রিকার এই বিনোদন জগত।









